করোনার মাঝেও কৃষকের সূর্যমুখী হাসি

Jhalakai Sun Seed News Photoবৈশ্বিক করোনা মাহামারিতে যখন অর্থনীতি হুমকির মুখে ঠিক তখনই ঝালকাঠির কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সূর্যমুখী ফুল। তিন মাস আগে লাগানো বীজে এখন মাঠজুড়ে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। পরিপক্ক বীজ এখন ঘরে তোলার সময়। এই বীজ থেকে হবে তেল। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঝালকাঠির রাজাপুরে চলতি মৌসুমে সূর্যমুখীর ভাল ফলন হয়েছে। তেল জাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বেশি লাভের আশা করছেন কৃষকরা।

বুধবার (৬ মে) রাজাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় মোট ১৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। বাজারে ভাল দাম পাওয়ায় ও ভাল ফলন হওয়ায় ধীরে ধীরে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। অধিকাংশ জমিতে এখন পরিকপ্প ফুল। কিছু ক্ষেত থেকে কৃষক ইতোমধ্যেই ফলন ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় বিনামূল্যে প্যাসিফিক হাইসন-৩৩ জাতের সূর্যমুখীর বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সদরের পূর্ব চররাজাপুর এলাকার কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, হাইব্রিড বীজ থেকে প্রতি একর জমিতে সূর্যমুখীর ফলন হয় ২৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত। যা থেকে তেল পাওয়া যায় ১৫ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত। শুধু বীজ বিক্রি করলে প্রতিমণ বীজ দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি করা যায়। আর বীজ থেকে তেল বের করলে খৈলসহ প্রতি মনে ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। প্রতিকেজি তেল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

উপজেলার পূর্ব চররাজাপুর কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল হক হাওলাদার বলেন, ‘সূর্যমুখীর কোনও কিছু ফেলনা নয়। বীজ থেকে তেল, এরপর মাছ ও পশুখাদ্যের জন্যে খৈল ও গাছ শুকিয়ে গেলে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় বাজারে সূর্যমুখী তেলের চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। করোনার এই দুর্যোগের মধ্যেও ভালো ফলন হওয়ায় এ বছর বেশি লাভের আশা করছি।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রিয়াজউল্লাহ বাহাদুর বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর রাজাপুরে প্রায় দ্বিগুণ সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। ভাল ফলন ও বেশি লাভ হওয়ায় এই উপজেলায় ধীরে ধীরে সূর্যমুখীর চাষ বাড়ছে।’