ভাঙনকবলিত অসহায় গ্রামবাসী জানান, বন্যার পানি নামতে শুরু করলে সুগন্ধা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের ২৩টি পরিবার। এরমধ্যে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে গৃহহীন হয়েছেন ওই গ্রামের বাসিন্দা রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হাজী আলতাফ হোসেন আকন। তার বসতবাড়ির ৩২ শতাংশ জমি রাতারাতি নদীতে ভেঙে পড়ায় তিনি পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে প্রায় ২৭০ একর জমির ফসল।
আকস্মিক ভাঙনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লকবাঁধ ভেঙে ক্ষুদ্রকাঠি-দোয়ারিকা সড়কের ৪০০ ফুটের বেশি অংশ নদীবক্ষে হারিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দুই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের আরও প্রায় শতাধিক পরিবারসহ উত্তর ক্ষুদ্রকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল-কারিম কেরাতুল কোরআন মাদ্রাসা, রাশেদ খান মেনন পাঠাগার, বকুলতলা বাজার, বকুলতলা ময়দান জামে মসজিদ, বেপারি বাড়ি জামে মসজিদ ও মুন্সীবাড়ি জামে মসজিদ।
এমন আশঙ্কার কথা স্বীকার করে বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক রথীন্দ্রনাথ চৌধুরী বলেন, ‘বিমানবন্দর রানওয়ের উত্তর প্রান্তের বর্ধিতাংশের সন্নিকটে সুগন্ধা নদী। ভাঙন আগ্রাসী রূপ ধারণ করলে বরিশাল বিমানবন্দরের জন্য সেটা অবশ্যই বিপদের কারণ হবে। তাছাড়া সম্প্রতি বরিশাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত নতুন বিমানঘাঁটির জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। তাই নদীভাঙন রোধে দ্রুত সেখানে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমীনুল ইসলাম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের নদীভাঙনে বিলীন হওয়া বসতবাড়ি এবং ভূমির তথ্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিসকে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এখনই জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে যারা সম্পূর্ণ ভূমিহীন তাদের জন্য খাস জমি বরাদ্দ এবং যাদের কমপক্ষে আড়াই শতাংশ জমি আছে তাদের নতুন বসতঘর প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মহাপরিচালক দেলওয়ার হোসেন বলেন, কিছু দিন আগে বরিশাল সফরে গিয়ে আমি নিজেও বাবুগঞ্জের ছোট মীরগঞ্জ এলাকার নদীভাঙন পরিদর্শন করেছি। আসলে জিও ব্যাগ কিংবা ব্লক দিয়ে নদীভাঙন রোধের সাময়িক চেষ্টা করা হয়। তবে স্থায়ী প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদীশাসন ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীকে সরজমিন পরিদর্শন করে সমন্বিত একটি রিপোর্ট দিতে বলেছি। ওই রিপোর্ট পেলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।