বাবা-মায়ের ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই ভাগ্যে নেই এমন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই বেড়ে উঠতে হয় শিশু পরিবারের সব শিশুকে। এই প্রতিষ্ঠানে ঠাঁই হয় বাবা-মা নেই বা মা আছে বাবা নেই এমন শিশুদের। অভিভাবকবঞ্চিত এসব শিশুর ভরণপোষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত মর্যাদায় সমাজে পুনর্বাসনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে সরকারি শিশু পরিবার পরিচালনা করছে সরকার। বর্তমানে পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) দেখা দিয়েছে চরম আবাসন সংকট।
জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর হুলারহাটে ১৯৭৩ সালে শিশু পরিবারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে সদনের মূল আবাসিক ভবনটি ঝূকিঁপূর্ণ ঘোষণা করে গণপূর্ত বিভাগ। ঝূকিঁপূর্ণ ঘোষণার এক বছর পর ২০১৯ সালে ভবনটি ভাঙা হয়। এরপর থেকেই দেখা দেয় চরম আবাসন সংকট। শিশু ও স্টাফরা ভাগাভাগি করে বসবাস করেন ছোট দোতলা দুটি জারাজীর্ণ ভাঙা ভবনে।
সদনের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার ও নুসরাত জাহান জানান, আমরা এখানে ঠিকমতো খাবার, খেলাধুলা ও পড়াশোনা করতে পারলেও থাকার জায়গা নিয়ে আছে নানা সমস্যা। আমরা যে ভবনে থাকি সেটা ভাঙা, সেখান থেকে পানি পড়ে। আমাদের কষ্ট করে এক কক্ষে ৪ জন থাকতে হয়। শিশু পরিবারে আমরা বাইরের থেকে ভালো থাকি। নতুন ভবনটি হলে আমরা আবাসন সমস্যাটি থেকে মুক্তি পাবো।
সদনে শুধু আবাসন সমস্যাই নয় লোকবলেরও রয়েছে সংকট। ১০০ শিশুর দেখাশোনার জন্য ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও সেখানে ১১টি পদই শূন্য। মাত্র ৮ জন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক শাবানা খানম জানান, ২টি বিষয়ে সংকট থাকলেও শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ বাকি সুবিধাগুলো পাচ্ছে শিশুরা।
জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক কে. এম. আখতারুজ্জামান বলেন, আবাসন ও জনবল সংকটের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিশু পরিবারের নতুন ভবনের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এখানে ১০০ শিশুর আসন সংখ্যা থাকলেও আবাসন সংকট থাকায় বর্তমানে থাকার জায়গা পেয়েছে ৭০ জন।