দাম্পত্য কলহের জেরে দুই মাসের শিশু সন্তান বিক্রি করার সময় বাবা সোহরাব হোসেনকে আটকে থানায় সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর গ্রামের প্যাদারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সোহরাব পৌরসভায় সুইপারের কাজ করে এবং তার স্ত্রী ভিক্ষা করে।
স্থানীয়রা জানান, সোহরাবের কোনও আয়-রোজগার না থাকায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকতো। শনিবার দুপুরের পর একই বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে শিশু সন্তানকে সোহরাবের কোলে দিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয় স্ত্রী। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোহরাব সন্তানকে নিয়ে প্যাদারহাট সিকদার বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে সন্তানকে পালক দেওয়ার কথা বলে। ওই বাড়ির অনেকে এতে রাজি হয়। এসময় সোহরাব তার সন্তানের বিনিময়ে কিছু টাকা দাবি করেন।
তখন ওই বাড়ির লোকজন জানতে চায় সে সন্তানকে বিক্রি করতে চায় কিনা। সোহরাব বলেন, ‘এখন আমার কোনও পথ নেই। আয় না থাকায় আমার পেটই চলে না, সন্তানকে কী খাওয়াবো?’
এতে গ্রামবাসীর শিশু পাচারকারী হিসেবে সন্দেহ হলে তারা মুলাদী থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে সন্তানসহ সোহরাবকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মুলাদী থানার ওসি ফয়েজ উদ্দীন জানান, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার জেরে সোহবার সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে বিক্রির চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়দের শিশু পাচারকারী সন্দেহ হলে তারা থানায় খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার স্ত্রীকে খবর দিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়।
তার অভিযোগ, সোহরাব বেশিরভাগ সময় মদ খেয়ে মাতাল থাকে। এ কারণে ঘরে কোনও টাকাও দেয় না। সে ভিক্ষা করে যা পায় তা দিয়ে কোনোভাবে খেয়ে-না খেয়ে থাকে। সন্তানকে ঠিকমতো খাবার দিতে না পারায় সোহরাবের সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাগ হয়ে সন্তানকে দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন। থানায় স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে মিল করে দিয়ে শিশুটির জন্য কাপড় ও খাবার কিনে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।