বঙ্গোপসাগরে জাল-মাছসহ ট্রলার ছিনতাই

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুরা হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জেলেদের জাল, মাছসহ ট্রলার ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে রূপারচরের কাছে সাগরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জলদস্যুরা জেলেদের হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায়।

যৌথ মালিকানাধীন একটি ট্রলারের ঝন্টু হাওলাদার বলেন, ‘১২ জন জেলে নিয়ে ট্রলারের মাঝি জসিম মধ্যরাতে সোনারচর এলাকা থেকে রূপারচর সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরছিলেন। এ সময় একটি ফাইবার বোটে ৭ জনের জলদস্যু দল তাদের ট্রলারের পাশে এসে সশস্ত্র অবস্থায় থামাতে বাধ্য করে। জলদস্যুদের  ৬ জনের মুখ বাঁধা এবং একজনের খোলা ছিল।

তাদের কাছে ২টি বন্দুক, ৩টি বগি ও ৩টি ছেনা ছিল। জলদস্যুরা প্রথমে ট্রলারের মাঝি জসিমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ট্রলারটি ফাইবার বোটের সঙ্গে বাঁধে ফেলে। ট্রলারের অন্য জেলেদের ফাইবার বোটে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে এবং বোট থেকে তেল ও ইঞ্জিল খুলে নিয়ে যায়। এ সময় ট্রলারের মিস্ত্রী মোসলেমকে জলদস্যুরা নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে গলাচিপা উপজেলার আমখোলা এলাকার সাগরে থাকা একটি মাছধরা ট্রলারের মাঝি নুরুল ইসলাম তেল দিয়ে সহায়তা করায় দুপুর একটায় তারা রাঙ্গাবালীতে এসে পৌঁছায়।

মাঝি জসিম আরও জানান, তাদের ট্রলারের মিস্ত্রি মোসলেমকে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে কলাপাড়ার লতাচাপলীর সাত নম্বর বয়া এলাকায় আরেকটি ট্রলারে ডাকাতি চালায় ওই জলদস্যুরা। পরে তাদের ট্রলারের মিস্ত্রি মোসলেমকে ওই ট্রলারে উঠিয়ে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোসলেম এখনও রাঙ্গাবালীতে এসে পৌঁছায়নি। তবে সে তার আত্মীয়দের সঙ্গে মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করেছেন।

ট্রলারের মাঝি জসিম জানান, জলদস্যুরা মামা বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করেছে। তারা আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার মাছসহ ট্রলারটি নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা রাঙ্গাবালী থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জগলুল আহসান বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মোবাইল ট্র্যাক করে তাদের শনাক্ত করা হবে। এলাকাটি কলাপাড়া থানায় হওয়ায় ওই থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।’

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ পাইনি। আপনার তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকা কলাপাড়া থানার আওতাভুক্ত নয়। তাছাড়া রাঙ্গাবালী থানা থেকে এ বিষয় আমাকে কিছু জানানো হয়নি।’