মা-বাবার ঝগড়ায় দায়ের কোপে সন্তানের মৃত্যু

বরগুনার তালতলীতে পিতার দায়ের কোপে ছেলে মো. সুমনের (১৫) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার টিঅ্যান্ডটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সুমনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে আমতলী থানা পুলিশ। সুমন তালতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার পিতার নাম আসাদুল খান।

প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশীরা জানান, আসাদুল খান স্ত্রী সেলিনা বেগম ও সন্তান নিয়ে তালতলী শহরের টিঅ্যান্ডটি সড়কের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কলহ লেগেই ছিলো। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তারা উভয়ে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রাইভেট পড়ে সুমন বাড়িতে এসে বাবা-মাকে ঝগড়া ও মারামারি করতে দেখতে পায়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আসাদুল তার স্ত্রী সেলিনাকে দা দিয়ে কোপাতে উদ্ধত হয়। এ সময় সুমন তার মাকে বাঁচাতে সামনে দাঁড়ালে বাবার দায়ের কোপে ছেলের কপাল ও মাথায় লেগে গুরুতর জখম হয়।

তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা মিলে সুমনকে উদ্ধার করে তালতলী হাসপাতালে নিয়ে আসেন আসাদুল। কিন্তু জখম গুরুতর দেখে সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ছেলের অবস্থা খারাপ দেখে পালিয়ে যান আসাদুল। পরে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক কেএম তানজিরুল ইসলাম কিছুক্ষণ পর সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ চিকিৎসক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রচুর রক্তক্ষরণেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের এই হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে।

আসাদুলে মা সেলিনা বেগম বলেন, ‘ওর বাপে মোরে প্রায়ই হুদাহুদি মাইরধইর করতো। আইজগো আবারও দা দিয়া কোপ দিতে চাইছিলো, পোলাডায় প্রাইভেট পইরা আইসা এই অবস্থা দেইখা সামনে খারাইয়া মোরে বাঁচাইতে চাইছেলে, ব্যাডায় (স্বামী) হেরপরও থামেনাই, মোর পোলাডারে কোপ দিয়া মাইরা হালাইছে, ওরে ধরে ফাঁসি দেন আপনেরা’ (কান্নাকাটি)।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহত স্কুল ছাত্র সুমনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘাতক আসাদুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’