রক্তের গ্রুপ পাল্টে যাওয়ায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন কৃষক

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে ‘এ’ পজিটিভ রক্তের পরিবর্তে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত পুশ করায় ব্রেন স্ট্রোকের (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) রোগী এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন কৃষক লোকমান হোসেনকে (৬২) ওই রক্ত পুশ করা হয়।

সে ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া গ্রামের মুনছুর খানের ছেলে। বর্তমানে আশংকাজনক অবস্থায় লোকমানকে মেডিক্যালের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রোগী লোকমানের মেয়ে রিয়া মনি বলেন, গত বুধবার সকালে তার বাবা ব্রেন স্ট্রোকে (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুধবার রাতে তাকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাবার শরীরে রক্ত শূন্যতা ধরা পড়ে। এরপর বাবার রক্ত ক্রসম্যাসিং করা হয়। ক্রসম্যাসিং শেষে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে ‘এ’ পজিটিভ রক্তের পরিবর্তে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত সরবরাহ করে।

ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ডাক্তারের পরামর্শে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাবার শরীরে ‘এ’ পজিটিভ রক্তের পরিবর্তে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত পুশ করা হয়। রাতে রক্ত শেষ হওয়ার পর বাবা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার কারণ খুঁজতে গিয়ে আমরাই চিহ্নিত করি তাকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওয়ার্ডের নার্সরাও বিষয়টি ধরতে পারেন। দ্রুত তাকে আইসিইউ’তে রেফার করা হয়। আমার বাবা এখন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে মেডিক্যালের একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, এ কারণে রোগীর স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের যে কোনও অংশ প্যারালাইসসহ কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার মিরাকল হলে ভালোও হয়ে যেতে পারেন। তবে তার সংখ্যা একেবারে নগণ্য।

মেডিসিন ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ সাধনা বিশ্বাস দাবি করেন রক্তের গ্রুপ ঠিক ছিল। তবে কাগজে লেখায় ভুল ছিল। তাহলে রক্ত দেওয়ার পর রোগী কেন এতটা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এর জবাবে বলেন, রক্ত দেওয়ার পর অনেক রোগী এভাবে অসুস্থ হয়।

কথা বলার জন্য হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. নুরুন্নবী তুহিনের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

আইসিইউ ওয়ার্ডের চিকিৎসক নাজমুল আহসান বলেন, ওই রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগীর শরীরে রক্ত শূন্যতার কারণে তার পরিবারকে আরও রক্ত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত দেওয়ার কারণে তার অবস্থার অবনতি হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজী হননি। তার সাফ কথা এ ঘটনা আমার ওয়ার্ডে ঘটেনি। সে বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। তবে তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে।

শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ’ পজিটিভ রক্তের পরিবর্তে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত রোগীর শরীরে পুশ করার ঘটনা আমি শুনেছি। বিষয়টির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।