র্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের সেই লিমন হোসেন বিয়ে করেছেন। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওপাড়া এলাকার সরখোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম টিটোর বড় মেয়ে রাবেয়া বসরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের বাড়িতে গায়ে হলুদের আয়োজন করেন লিমন। এতে তার সহপাঠী ও আত্মীয়-স্বজনরা অংশ নেন। আজ বেলা ১১টায় বরযাত্রী নিয়ে নওপাড়ার সরখোলা গ্রামে পৌঁছান লিমন। কনের বাড়িতে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। এরপর বিকাল ৪টায় সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
লিমন হোসেন জানান, পরিবারের ইচ্ছায় বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে এবার জীবনে আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে চান তিনি।
রাবেয়া বসরী জানান, লিমন প্রতিকূল পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে এ পর্যন্ত এসেছে। সবকিছু শুনে তাকে আমার ভালো লেগেছে। দাম্পত্য জীবনে সে দায়িত্বশীল হবে বলে আশা করি।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ রাজাপুর উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী মিজান ও মোর্শেদকে ধরতে গিয়ে সোর্সের ভুল তথ্যের কারণে লিমনের পায়ে গুলি করে র্যাব। পরে চিকিৎসকরা তার একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। তখন লিমন ছিলেন ১৬ বছরের কিশোর। এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় র্যাবের গুলিতে লিমনের পা হারানোর ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।
সাভারের সিডিডি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লিমনকে একটি কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেয়। এই পায়ে ভর করে লেখাপড়া করে ২০১৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তিনি। একই বছর সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি অনার্সে ভর্তি হন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এলএলবি অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি নিয়ে ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষা সহকারী পদে যোগ দেন লিমন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সহকারী প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতি পান লিমন। পা হারানোর সেই দুর্বিষহ দিন পেরিয়ে ছেলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় লিমনের বাবা-মা গর্বিত। ছেলের বিয়ে নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত তারা।
লিমনের মা হেনোয়রা বেগম বলেন, র্যাবের ভুলের কারণে আমার ছেলে একটি পা হারিয়েছে। পা আরও কোনও দিন পাওয়া যাবে না ঠিকই, কিন্তু লিমন এ দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে। সে আজকে বিয়ে করেছে। তার সংসার জীবনে সুখী হোক।