ইউএনও-পুলিশের মামলায় জামিন পেলেন গুলিবিদ্ধ ২ আ.লীগ নেতা

বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে আলোচিত হামলার ঘটনায় ইউএনও ও পুলিশের মামলায় তৃতীয় দফায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন চোখে গুলিবিদ্ধ দুই আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির ও তানভীর হাসান। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১টায় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ ১০ হাজার টাকার বন্ডে আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মাসউদ বাবলু ও আসামি পক্ষের আইনজীবী সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুসের জিম্মায় পুলিশ রিপোর্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে, দুই মামলায় একই আদালত গত ২৫ আগস্ট প্রথম দফায় ৯ জনের এবং ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও ১২ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ পুলিশ প্রহরায় ঢাকার চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেওয়া চোখে গুলিবিদ্ধ নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা তানভীর হাসানের জামিনের জন্য অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।

শুনানি শেষে আদালত দুই জনের জামিন মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে গত ১৮ আগস্ট সদর উপজেলা পরিষদের ঘটনায় গ্রেফতার আওয়ামী লীগের ২৩ নেতাকর্মীর সবার জামিন হলো।

গ্রেফতার আসামির জামিন ‘সমঝোতা’ প্রক্রিয়ার অংশ বলে জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। সুবিধাজনক সময়ে ওই মামলায় সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহসহ অন্যান্যদের জামিনের আবেদন করার কথা জানান তিনি। সমঝোতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউএনও ও পুলিশের দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি হবে বলেও আশা করেন তিনি।

গত ১৮ আগস্ট রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের অনাকাঙ্খিত ঘটনায় পরদিন ইউএনও এবং পুলিশ বাদী হয়ে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহসহ আওয়ামী লীগের ৬০২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুই মামলায় পুলিশ ২৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।

এদিকে ইউএনও এবং ওসির মামলার পাল্টা হিসেবে ২২ আগস্ট প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন এবং সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার বাদী হয়ে ইউএনও এবং ওসিসহ মোট ১১৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন আদালতে। আদালত ওই মামলার অভিযোগ তদন্ত করে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে ওই দিনই রাতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদলের বাসভবনে বিভাগীয় ও জেলা এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিটি মেয়রসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।