বেতনের টাকা কেড়ে নিতে কাটা হয় আনসার সদস্যের গলার রগ

বেতনের টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মো. রনি হাওলাদার (২৫) নামের এক আনসার সদস্যকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শের-ই বাংলা মেডিক্যাল বলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) তার চিকিৎসা চলছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে তার সঙ্গে থাকা সহকর্মী মো. ছগির মিয়া। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আমখোলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আনসার সদস্য রনি হাওলাদার ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দীপপাশা গ্রামের শাহআলম হাওলাদারের ছেলে। তিনি লতিচাপলী ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীর দায়িত্বে ছিলেন। 

রনির সহকর্মী ছগির বলেন, ছুরিকাঘাতে রনির শ্বাসনালী গলার ডান পাশের সব রগ কেটে গেছে। রাতে রনিকে শেবাচিমে নিয়ে আসার পরে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে পরে চিকিৎসকরা জানান, সকালে তারাই অপারেশন করবেন। এরপরেও কোনও সমস্যা হলে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রনিকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।   

রনির আরেক সহকর্মী আনসার সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, রনি রাত আটটার দিকে কুয়াকাটার একটি এটিএম বুথ থেকে বেতনের টাকা তুলে ভ্যানযোগে সাবমেরিন ক্যাবেল ল্যান্ডিং স্টেশনের উদ্দেশে রওয়ানা হন। পরে আমখোলাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সড়ক খারাপ হওয়ায় তিনি ভ্যান থেকে নেমে মোবাইলফোনে কথা বলতে বলতে এগোচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক রনির মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তার গলায় ও বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ও তার মোবাইলফোন ও বেতনের টাকা ভর্তি মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে রনি গুরুতর আহত হন। পরে তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে সেকান থেকে তাকে কলপাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

কলাপাড়া হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কামরুন নাহার মিলি বলেন, রনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গলা কেটে যাওয়ায় তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। 

মহিপুর থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, আনসার সদস্যের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।