৪৪ দিন ধরে নিখোঁজ পুলিশ কর্মকর্তা

৪৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী মো. আনোয়ার হোসেন। স্বামীর সন্ধান ও তার সুচিকিৎসার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী মোসা. নাজমা সুলতানা। ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিখোঁজ থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে তার দুই সন্তানের পড়ালেখা।

শনিবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে স্বামীর নিখোঁজ ও অসুস্থতার কথা জানান নাজমা সুলতানা। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার স্বামী মো. আনোয়ার হোসেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের এসআই হিসেবে কর্মরত অবস্থায় গত ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর বরিশাল কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়। এর আগে আনোয়ার হোসেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানায় কর্মরত অবস্থায় গত ২৭ মে করোনা আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হন। করোনা মুক্ত হলেও এরপর থেকে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। তখন তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিনের কাছে থানার পরিবর্তে পুলিশ লাইন্স কিংবা কন্ট্রোল রুমে বদলির আবেদন করেন।

নাজমা সুলতানার দাবি, এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় বদলি করা হয়। পরে পুলিশ কমিশনারের কাছে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কথা বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানাতে গেলে তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা করা হয়। তার হার্টে ব্লক, চোখে কম দেখা, কথা বললে মাথায় ব্যথা, ফুসফুস, কিডনি, পাইলসের সমস্যাসহ শারীরিকভাবে খুবই দুর্বলতাসহ বাম হাতে ও পায়ে শক্তিহীন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য কর্মস্থলে না থাকায় সুস্থ হওয়ার পর তাকে বেতন-ভাতা পরিশোধ না করেই আরেকটি বিভাগীয় মামলা দিয়ে গত ১৭ আগস্ট কুমিল্লা জেলায় বদলি করা হয়। এতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং গত ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ অবস্থায় তার খোঁজ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই বিভাগীয় মামলা চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর প্রতিকার ও স্বামীর চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন নাজমা সুলতানা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- তার আত্মীয় মো. মনির হোসেন, মৌসুমি আক্তার, মো. বায়েজিদ, সোহাগ সিকদার ও পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদসহ সাংবাদিকরা। 

রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন রাঙ্গামাটি আসার পরে আমাকে জানায় সে অসুস্থ। এতে আমি তাকে সহানুভূতি দেখিয়ে তার কথা মতোই (বাঘাইছড়ি) থানায় পোস্টিং দিয়েছি। তাকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অসুস্থ, প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিতাম। কিছু দিন পরে তার অনুমতি নিয়ে একটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলো। মামলার কোনও কাজ করেনি সে। তাকে ডিপার্টমেন্টেও কোনও কাজে পাওয়া যেত না। ডিউটির সময় ডিউটিতে পাওয়া যায় না, কারো সঙ্গে সহযোগিতা করে না। অফিসে আসতো না, ওসি খবর পাঠালে বলতে শরীর ভালো না, বুকে ও কোমরে ব্যথা এসব বলতো। এতে ওসি প্রতিনিয়ত আমার কাছে অভিযোগ করতো। সে যদি অসুস্থ হয়ে থাকে চিকিৎসা নেওয়ার কথা। সারাদিন শুয়ে থাকলে তো রোগ ভালো হতো না। কেউ কিছু বললে আত্মহত্যার হুমকি দিতো সে। চিকিৎসা নিতে পাঠিয়েছি কুমিল্লা। সে আর আসে না। পরে আমি তাকে আনতে গাড়ি পাঠিয়েছি, কিন্তু আসেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিন ডাকলাম এসে বলে, আমার হার্টে সমস্যা রিং পরাতে হবে। আমি তাকে এক মাসের ছুটি নিয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার জন্য বললাম। কিন্তু সে ২০ দিনের ছুটি নিয়েছে। এতে আমি ওসির সঙ্গে রাগ করেছি, এক মাসের ছুটি দিলেন না কেন? ওসি জানান, সে ২০ দিনের নিয়েছে। ছুটি নিয়েছে চিকিৎসার জন্য না, তাবলীগে যাওয়ার জন্য। সে জানিয়েছে, রাঙ্গামাটি এসে চাকরি করবে না, আমরা অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু সে কারো কথার গুরুত্ব দেয়নি। তার ওপরে কোনও জুলুম করা হয়নি। এসব বিষয়ে তাকে শোকজ করা হয়েছে, কিন্তু কোনও জবাব দেয়নি। পাঁচবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, সে চিঠির উত্তর না দিয়ে ফেসবুকে আজেবাজে কথা লিখতো। এরপর সে নিখোঁজ হয়ে গেছে, পরে রমনা থানার ওসির মাধ্যমে একটি মসজিদ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে সেখান থাকে পালিয়ে যায়।’