পটুয়াখালীতে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ২০ 

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালীন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। 

রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত ৭টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতরা হলেন গলাচিপা প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক  ইত্তেফাকের সংবাদদাতা মলয় দত্ত, মাইটিভির জেলা প্রতিনিধি হাসান এলাহী, মোহনা টিভির সোহাগ রহমান, আনন্দ টিভির সোহেল আরমান, ভোরের পাতার মোহাম্মদ হাফিজ, দৈনিক সন্ধ্যাবাণীর রুবেল আকন, নিউ ন্যাশনের সঞ্জিব সাহা, এশিয়ান টিভির জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন, যুবলীগ নেতা লিয়াকত, কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সমির কৃষ্ণ পাল, সাবেক কাউন্সিলর বশার প্যাদা, পৌর যুবলীগ সদস্য কবির, আলমগীর হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস মেম্বার ও যুবলীগ নেতা সোহাগ প্যাদাসহ ২০ জন। তাদের গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

গলাচিপা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক জানান, এদের মধ্যে অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাকিদের চিকিৎসা চলছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, রবিবার বিকাল ৩টায় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ এনে ঝাড়ু মিছিল করেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা চেয়ারম্যান সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন। সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালে গলাচিপা পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন ও ওয়ানা মার্জিয়া নিতু আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ করলে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

হামলার আগে সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ শাহিন শাহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে আজ মিছিল হয়েছে তার সত্যতা থাকলে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে বিচার করবে। আমি যে কথাগুলো বলেছিলাম, সে সময় সভাপতি ও সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আমি কাউকে অশালীন কথা বলিনি। হামলার পরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসে কোনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হামলা করতে পারে না। বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করেছে।

গলাচিপা পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন শেষে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিতু ও আমার মা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নুরুন্নাহার বেগম অফিসে যান। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান তাদেরকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার জন্য তার অনুসারীদের নির্দেশ দেন। তখন আমি সেখানে উপস্থিত হই। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা টিটো বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসে নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা আর কখনও দেখিনি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ কুমার দে বলেন, আজকের ঘটনাটি জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, বিকালের মিছিলকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটেছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনও পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।