দলে ভুঁইফোড় ও অনুপ্রবেশকারীরা রামরাজত্ব করছে: যুবলীগ চেয়ারম্যান

আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, ‘দলের মধ্যে ভুঁইফোড় ও অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে রামরাজত্ব করছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই বর্তমান যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে তাদের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আমি কথা দিচ্ছি, তৃণমূল থেকে বঞ্চিত, যোগ্য ও ত্যাগী কর্মীকে মূল্যায়ন করে এই চক্রান্ত আমরা প্রতিহত করবো।’

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় বরগুনার ঐতিহ্যবাহী টাউনহল মাঠে বরগুনা জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে সবাইকে সতর্ক করে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের কাছে বন্ধুবেশে শত্রু হিসেবে বিচরণ করছে। তাদের আমাদের জন্য কোনও মায়া নেই। তারা এসেছে তাদের উত্তরসূরিদের স্বার্থ হাসিল করতে। স্বার্থ হাসিল হলে তারা আপনাদের রেখে কেটে পড়বে। আমি মনে করি, এটা স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সুপরিকল্পিত নীল নকশা।’

যুবলীগ চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের দলে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা এখনও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে মনের দুঃখে ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে রয়েছেন অথবা রয়েছেন জেলখানায়। তাদের দীর্ঘশ্বাসে কিন্তু আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো। আমাদের উচিত তাদের সম্মান দেওয়া, মূল্যায়ন করা। ১২ বছরে আমাদের দুর্দিনের অগনিত নেতাকর্মী এখনও অবহেলিত ও নির্যাতিত হচ্ছেন। কিছু অসাধু ও তথাকথিত নেতা ব্যক্তিস্বার্থে দলে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিয়ে আমাদের পরীক্ষিত দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করছেন।’

সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– যুবলীগ চেয়ারম্যানের স্ত্রী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, মুজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী), শেখ ফজলে ফাহিম, যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলাম, শামীম আল সাইফুল সোহাগ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু।

প্রসঙ্গত, যুবলীগ বরগুনা জেলা শাখার সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে। সেই সম্মেলনে অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ সভাপতি ও সাহাবুদ্দিন সাবুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর পরেও বরগুনা জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।