বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের রামনগর ভাড়ানি খালের ওপর ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা সেতু। নির্মাণকাজ শেষ করার পর যাতে যানবাহন সেখানে উঠতে না পারে এ জন্য সিমেন্টের ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এই ব্যারিকেড না থাকলেও ওই সেতুতে যানবাহন ওঠার কোনও জো নেই। আর গ্রামবাসীর পারাপারের জন্য সেতুতে ওঠার জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছে সিমেন্টের সিঁড়ি।
এতে গ্রামবাসীর তেমন কোনও উপকারে আসছে না সেতুটি। যানবাহন পারাপারে সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি উঠেছে। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গত রবিবার রাতে ব্যারিকেডটি ভেঙে দেয় ঠিকাদারের লোকজন। তবে এলজিইডি বলছে, সংযোগ সেতু না থাকায় সেতুটিতে আপাতত যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সেতুটি যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে এখান দিয়ে চলাচলরত যানবাহনকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা বেশি ঘুরতে হবে না। একইসঙ্গে রামনগর, কাফিলা, মোল্লারহাট, তালতলাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ওই ব্রিজ দিয়ে সহজে চলাফেরা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর সিঁড়ি ও ব্যারিকেড দেখে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে কী কারণে এটা করা হলো? এরপর সবার মুখে মুখে রটতে থাকে সেতুটি শুধু পায়ে হাঁটার জন্য নির্মাণ হয়েছে। এ কারণে সিঁড়ি ও ব্যারিকেড দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে যেভাবে যানবাহন চলাচল করতো, এখনও একইভাবে চলছে। সেতুটি হলেও উপকার পাচ্ছে না। তবে পায়ে হেঁটে যারা চলাচল করি, তাদের জন্য একটু ভালো হয়েছে। অনায়াসেই ব্রিজটি পার হতে পারছি। এখন মহেশপুর বাজার হয়ে চলাচল করতে হয়। এতে যানবাহন নিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।’
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৭ এপ্রিল রাতে ঠিকাদারের লোকজন সিঁড়ি ঠিক রেখে ব্যারিকেড দেওয়া দেয়ালটি ভেঙে দিয়েছে। তবে তাতেও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
সিঁড়ি ও ব্যারিকেড দেওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস রূপালীর স্বত্বাধিকারী সুধান বাবু জানান, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও উদ্বোধনের একটি বিষয় থাকে। এ জন্য গ্রামবাসীর সুবিধার্থে সিঁড়ি এবং অন্য পাশে একটি দেয়াল টেনে রাখা হয়। যাতে যানবাহন চলাচল শুরু না হয়। উদ্বোধনের আগেই তা ভেঙে দিয়ে সেতুটি যানবাহন চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সেতুটি সংশ্লিষ্ট দফতরের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘সেতুটির ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের সঙ্গে নিচ দিয়ে নৌকাও চলাচল করবে। সেভাবে নকশা দেওয়া হয়। কিন্তু আমার অনুপস্থিতিতে উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকি না থাকায় সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে যানবাহন চলাচলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ঠিকাদারকে ওই কাজ সম্পন্নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীর গাফিলতি থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থানে সেতু নির্মাণ শেষে সংযোগ সড়ক নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, আগামীতে তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সেতু এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায় করে নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণকাজ ২০২১ সালে শুরু হয়। সম্প্রতি এটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।