জাল নোটে দেনা শোধ, যেতে হলো কারাগারে

ঝালকাঠির রাজাপুরে জাল টাকা দিয়ে দেনা শোধ করায় এক নারীকে কারাগারে যেতে হয়েছে। বিউটি মিস্ত্রি নামে ওই নারী তার পাওনাদার সুবর্ণা হালদারকে ৫০০ টাকার জাল নোটে মোট ২২ হাজার টাকা দেনা শোধ করেন। পরে সুবর্ণা ওই টাকা দিয়ে সদাই কিনতে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ সুবর্ণা ও বিউটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর জাল নোটের বিষয়টি খোলাসা হলে পুলিশ সুবর্ণাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিউটি মিস্ত্রিকে আসামি করে রাজাপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী সুবর্ণা। এ মামলায় বিউটিকে কারাগারে পাঠান আদালত।

ভুক্তভোগী সুবর্ণা জানান, নৈকাঠি এলাকার পূর্বপরিচিত জয়ন্ত মিস্ত্রির স্ত্রী বিউটি পাঁচ মাস আগে ১৭ হাজার টাকা ধার নেন। ১৫ দিন আগে পাঁচশ’ টাকার নতুন নোটে বিউটি তার দেনা শোধ করেন। কয়েকদিন পর বিউটি আবারও পাঁচশ’ টাকার নতুন নোট দিয়ে সুবর্ণার থেকে পুরাতন নোটের পাঁচ হাজার টাকা পাল্টে নেন। গত সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ওই টাকা থেকে একটি নোট নিয়ে সদাই কিনতে বাজারে যান সুবর্ণা। মালামাল কিনে দোকানিকে টাকা দেওয়ার পর সেটি জাল বলে ধরা পড়ে। পরে বাড়ি ফিরে ২১ হাজার ৫০০ টাকা যাচাই করে সব নোট জাল পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিউটি ওই টাকা তার দেওয়া না বলে দাবি করে। উল্টো রাজাপুর থানায় এসে সুবর্ণার নামে জাল টাকা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ দেয়।

সুবর্ণা বলেন, এ ঘটনায় আমিও রাজাপুর থানায় বিউটির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করি। পরে পুলিশ উভয় অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে বিউটির প্রতারণার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। 
 
স্থানীয়রা জানান, বিউটি এর আগেও ইসলামি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে জাল টাকা দিয়ে ধরা পড়েছিলেন। 

রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা বলেন, থানায় দুই নারীকে এনে প্রাথমিক তদন্তের পর সুবর্ণা হালদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সুবর্ণা মামলায় বিউটিকে আদালতে পাঠানো হয়।