ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপকূলে প্রস্তুতি, পটুয়াখালীতে ৭০০ আশ্রয়কেন্দ্র

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে বিরাজ করছে বৈরী আবহাওয়া। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপকূলে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। খোলা হয়েছে ৭২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র। 

রবিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন। উপকূলের বেশিরভাগ এলাকায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযান উপকূলে থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। 

এদিকে, মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সমুদ্রগামী সব ট্রলার কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর, মহিপুর মৎস্যবন্দর ও খাপড়াভাঙা নদীর দুই তীরসহ জেলার বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে নোঙর করা অবস্থায় আছে।

গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন সংবাদে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও জানমালের নিরাপত্তায় পটুয়াখালী জেলা দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়। 

এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। সভায় পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানসহ জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দফতরের প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, জেলায় ৭০৩টি সাইক্লোন শেল্টার ও ব্যবহারযোগ্য ২৬টি মুজিব কিল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত মেডিক্যাল টিম, জরুরি ওষুধ ও শুকনো খাবার মজুত রাখা হবে। অরক্ষিত ও দুর্বল বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত এবং সব মানুষের কাছে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে হবে। সেইসঙ্গে উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত, জরুরি ভিত্তিতে সড়ক মেরামত, জেলার প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগকালীন সচেতনতামূলক প্রচারণা, জনসাধারণের নিরাপত্তা প্রদান ও উদ্ধারকাজে সার্বিক সহযোগিতা করবে পুলিশ। সক্ষমতা অনুযায়ী করোনাকালীন সময়ের মতো মানবিক সহায়তা দেবো আমরা।’ 

জেলা সিভিল সার্জন এসএম কবির হাসান বলেন, ‘দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা একাধিক টিম গঠন করেছি। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে মেডিক্যাল টিম থাকবে।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় পটুয়াখালী ও কলাপাড়া সার্কেলের আওতায় ১০ হাজার জিওব্যাগ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রস্তুত রয়েছেন আমাদের লোকজন।’  

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেরা বাড়িঘরে নিরাপদে অবস্থান করছেন।’

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, ‘রবিবার বিকাল ৩টায় পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে নিম্নচাপটি অবস্থান করছে। আজ মধ্যরাতে সাগরে অবস্থানরত সিত্রাং নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এটি মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানার শঙ্কা রয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।’