অজ্ঞান পার্টির একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে চলন্ত লঞ্চ থেকে নদীতে ফেলে হত্যার দায়ে অজ্ঞান পার্টির এক সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে বরিশালের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী ও অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক টি এম মুসা এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম খোকন সিকদার। তিনি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণাকালে আসামি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। নিহতের নাম মোকসেদ আলী খান। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তার ছেলে শামীম খান বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি লস্কর নুরুল হক মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, ২০১৩ সালের ৮ মার্চ ঢাকা থেকে বাবুগঞ্জের ‍উদ্দেশে আল-ওয়ালিদ লঞ্চে রওনা দেন মোকসেদ। পথিমধ্যে তাকে জুসের মধ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্যে সেবন করানো হয়। এতে জ্ঞান হারান। তখন অজ্ঞান পার্টির সদস্য খোকন লঞ্চের পেছনে নিয়ে তাকে নদীতে ফেলে দেয়। পরদিন বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি ‍আরও বলেন, মামলা চলাকালে ‍আসামি খোকনকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তিতে এসব ঘটনা বেরিয়ে ‍আসে। জামিনে গিয়ে খোকন ‍পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১২ মার্চ বাবুগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা হ‍য়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়। ২০১৫ সালের ১২ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক উথান চো অজ্ঞান পার্টির সদস্য খোকনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেন। ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক এই রায় দেন।