নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৮

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আট জন আহত হয়েছেন। আহতদের পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে পটুয়াখালী পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- সিফাত হোসেন জুবায়ের (১৩), সিয়াম হোসেন (১২), মেহেদী হাসান (১৪), সাজিদ (১৩), আলী মৌন (১৪), আমিনুল ইসলাম রিহান (১৪), উজ্জ্বল (১৪) ও তুহিন (১৪)। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

আহত উজ্জ্বল বলে, আমাদের বন্ধু মান্নার জন্মদিন ছিল আজকে। এতে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় বসে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেছি। এ সময় ২০/২৫ জন লোক (কিশোর) উপস্থিত ছিল। পরে আমরা আনন্দ-ফুর্তি করে সেখান থেকেই ছোট চৌরাস্তা গ্রুপ ও বড় চৌরাস্তা গ্রুপ বিভক্ত হয়ে বাসায় রওনা হয়েছি। আমারা ছোট চৌরাস্তা গ্রুপের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা সড়কে পৌঁছালে পেছনের দিক থেকে এসে হামলা করে করে বড় চৌরাস্তা গ্রুপের সদস্যরা। এ সময় খুর ও সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে আমারাও মারামারিতে জড়িয়ে যাই। এতে উভয় গ্রুপের লোক আহত হয়েছে। 

এই কিশোর আরও বলে, আমারা সবাই সমবয়সী এবং অধিকাংশ সময় একসঙ্গেই চলাফেরা করে থাকি। অনেকদিন ধরে আমরা সবাই একই গ্রুপে যুক্ত ছিলাম। তবে দুই মাস আগে গ্রুপের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে সাজিদের সঙ্গে সিফাত হোসেনের দ্বন্দ্ব বাধে। গ্রুপের মধ্যে দুজনই নিজেদের সিনিয়র দাবি করেছিল। পরে বিষয়টি এলাকার বড় ভাইরা মীমাংসা করে দিয়েছেন। রিয়ান নামের একজন গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র হিসেবে দাবি করলেও আমরা তা মেনে নেইনি।

অন্য আহতরা জানান, গ্রুপের কাউকেই সিনিয়র হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছিল না। এতে মারামারির প্রস্তুতি (খুর ও সুইচ গিয়ার চাকু) নিয়েই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসছিল বড় চৌরাস্তা গ্রুপ। তারা আধিপত্য বিস্তার ঘটাতেই ছোট চৌরাস্তা এলাকাতেই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইনুল ইসলাম বলেন, আহত সাত জনকে হাসপাতালে ভর্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর একজনকে জরুরি বিভাগ থেকে  প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, জন্মদিন অনুষ্ঠানে কেক কাটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।