১১ লাখ লিটার তেল নিয়ে মেঘনায় ডোবা জাহাজের বিরুদ্ধে হচ্ছে মামলা

ভোলার মেঘনা নদীতে ১১ লাখ লিটার পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে ডুবে যাওয়া জাহাজ ‘সাগর নন্দিনী-২’ মেরিন আইন ভঙ্গ করেছে। জাহাজটির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।

এই বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-সংরক্ষণ পরিচালক ও পরিচালন বিভাগের মো. শাহাজাহান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত সাগর নন্দিনী-২ মেরিন আইন ভঙ্গ করেছে। প্রকৃত চালক জাহাজে ছিলেন না। মেরিন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সাগর নন্দিনী-২ এর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য, রবিবার ভোরে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি এলাকার মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে তেলবাহী জাহাজ ‘সাগর নন্দিনী-২’ এর সঙ্গে নোঙর করা আরেকটি জাহাজের সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে সাগর নন্দিনী জাহাজের পেছনের তলা ফেটে তা পানিতে নিমজ্জিত হয়। জাহাজে থাকা মাস্টারসহ ১৩ নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। মেঘনার পানিতে ভেসে যায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল ছিল। যার বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকার ওপরে।

এদিকে, দুই দিন পার হলেও এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি জাহাজটি। ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে এসেছে সাগর বধূ-৩, সাগর বধূ-৪ ও সাগর নন্দিনী-৩ নামে তিনটি জাহাজ এবং দুটি বার্জ। তবে এসব নৌযান এসেও জাহাজটি উদ্ধার করা যায়নি। জাহাজ উদ্ধারে চাঁদপুর থেকে আসছে আরেকটি বার্জ। পদ্মা ওয়েল কোম্পানির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ উদ্ধার অভিযান চলছে।

ডুবে যাওয়া জাহাজ কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান  জানান, কোস্টগার্ডের বার্জ হুমায়রা চাঁদপুর থেকে ঘটনাস্থলে আসছে। সেটি এলেই তারা উদ্ধার কাজ শুরু করতে পারবেন। আজ সন্ধ্যার মধ্যেই সেটি এলেই উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। আগামীকালের মধ্যে কাজ শেষ করতে চেষ্টা করবেন।

এদিকে, ডুবন্ত জাহাজ থেকে মেঘনায় ছড়িয়ে পড়ছে তেল। পানির ওপর থকথক করছে তেলের আস্তর। নদীতে মাছ শিকার করতে পারছেন না জেলেরা। তারা তেলের ঝাঁজে নাকাল হয়ে পড়েছেন। মেঘনার তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আজ দুদিন ধরে নদীর পানি ব্যবহার করছেন না। রয়েছে নদী দূষণের আশঙ্কা।