দেবে গেছে সেতু, মাঝে গর্ত

সেতুর পিলার বেঁকে গেছে। অনেক আগেই ফাটল ধরেছে দুই পাশের বিমে। সেতুর ওপরে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। দুই পাশের রেলিংয়ের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে পড়েছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জের গারুড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত সুখী নীলগঞ্জ গ্রামের ভারানি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির এমন বেহাল দশা।

যেকোন মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন আশপাশের পাঁচ গ্রামের ১০ হাজার বাসিন্দা। বড় ধরনের কোনও সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আগে সেতুটি ভেঙে নতুনভাবে করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার বলেও কোনও প্রতিকার মিলছে না।

এই সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওই ইউনিয়নের সুখী-নীলগঞ্জ, জিনীয়া, খয়রাবাদ, কাঠিপাড়া ও বালি গ্রামবাসী। কলসকাঠী ইউনিয়নের বাসিন্দারাও ওই সেতু ব্যবহার করে। এসব গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষক। তাদের উৎপাদিত পণ্য নিতে সেতুটি ব্যবহৃত হয়। সেতুটি ভেঙে পড়লে কৃষকের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। সে ক্ষেত্রে খাল পাড় হয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগে পড়তে হবে তাদের।

সেতুর ওপরে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত

ষাট বছরের বৃদ্ধ আমজেদ আলী জানান, স্বাধীনতার পরে তাদের গ্রামে তেমন উন্নয়ন হয়নি। এর প্রধান কারণ বাকেরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে একটি নদী পার হয়ে ওই গ্রামে আসতে হয়। সদর উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ওই গ্রামের বাসিন্দারা উন্নয়ন থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে গ্রামের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু ওই ইউনিয়বাসীর ভাগ্যে তেমন উন্নয়ন জুটছে না। ব্রিজটিসহ কিছু সড়কের উন্নয়ন হলে তাদের জীবনমান বদলে যাবে।’

এ ব্যাপারে গারুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম কাইউম খান জানান, তিনশ ফুট লম্বা সেতুটির সংস্কার ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট থেকে কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া ওই সেতু সংস্কার করলে হবে না, নতুন সেতু নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় এমপি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সেখান থেকে দুই থেকে তিনবার মেপে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন সেতুটির যেসব স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে কাঠ দিয়ে কোনভাবে গ্রামবাসী এবং মোটরসাইকেল চলাচলের উপযুক্ত করা হবে।

স্থানীয় এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রত্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম না। উপজেলা প্রকৌশলীকে সেতুর অবস্থা দেখার জন্য বলবো। একইসঙ্গে নতুন সেতু নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণেরও নির্দেশ দেওয়া হবে।’