কুয়াকাটার লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ১৩ বস্তা জেলেদের বিশেষ ভিজিএফ চাল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে মহিপুর থানা পুলিশ প্রবাসী বশির মীরের আলীপুরের বাসা থেকে এ চাল জব্দ করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাটকা ইলিশ শিকার, আহরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধে সরকারিভাবে জেলে পরিবারের মধ্যে চার মাসে ৪০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ চলছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় পরিবারেও ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে যে কেউ বশিরের বাড়িতে ১৩ বস্তা জেলেদের বিশেষ ভিজিএফ চাল রেখে গেছেন। সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে ১৩ বস্তা চাল জব্দ করেন।
এছাড়া বশিরের বাড়ি সংলগ্ন রাহিমা বেগমের ঘরে ৯ বস্তা এবং ঘরের মধ্যে আরও তিনটি প্লাস্টিকের ড্রাম ভর্তি চাল পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে রাহিমা বেগম বলেন, ‘আমার ঘরে যে চাল রয়েছে তা আমার এবং আমার দুই ভাইয়ের। তারা জেলে।’
২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবুল হোসেন কাজী বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে অনেক জেলে রয়েছেন, যাদের নামে জেলে তালিকার কার্ডও রয়েছে, তারা চাল পাচ্ছে না আর দু-একটি পরিবারে খোঁজ নিলে বস্তায় বস্তায় চাল পাওয়া যায়, এটা দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘চাল বিতরণের দুই মাস আগে সবার জেলে কার্ড ইউনিয়ন পরিষদে জমা রাখা হয়েছে। এখন চাল বিতরণের সময় তাদের অনেকেই জানে না যে চাল বিতরণ হচ্ছে। এ সুযোগে তাদের চাল না দিয়ে এসব অনিয়ম চালাচ্ছে পরিষদ কর্তৃপক্ষ।’
এ ব্যাপারে লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আমি সঠিকভাবে চাল বিতরণ করছি। তবে মিশ্রপাড়া এলাকার তিন জনের চাল বশিরের বাড়িতে রেখে গেছেন যেটা জব্দ করে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই চালের সঠিক লোক পাওয়া গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে তাদের দেওয়া হবে।’
তার দাবি, উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে চাল এনে বিতরণ পর্যন্ত হিসাবে কোনও গড়মিল নেই।
কলাপাড়া উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে চাল জব্দ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'