মনোনয়নে জোড়া লাগছে আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলেমেয়ের সম্পর্ক

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর জোড়া লাগতে শুরু করেছে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলেমেয়ের সম্পর্ক। বুধবার (১৯ এপ্রিল) বরিশাল-১ আসনের এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে তার দুই বোন এবং ছোট ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহর একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তাদের হাসিখুশি দেখা যায়। যেটিকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্ক জোড়া লাগছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। কারণ গত কয়েক বছর তাদের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল না।

এবার বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত)। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বোন আমেনা বেগমের ছোট ছেলে এবং আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছোট ভাই ও বর্তমান মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর চাচা।

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত সহকারী খায়রুল বাশার বলেন, ‘বুধবার বেলা ১১টার দিকে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ তার দুই বোন হাবিবা আলম ও হামিদুন্নেছা বিউটিকে নিয়ে হাসানাত আবদুল্লাহর ঢাকার বাসায় আসেন। বাসায় এসে বড় ভাই হাসানাত আবদুল্লাহকে সালাম করে দোয়া নেন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। এ সময় চার ভাইবোন একসঙ্গে বসে ছবি তুলেছেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সাদিক আবদুল্লাহও। প্রায় এক ঘণ্টা হাসানাত আবদুল্লাহর বাসায় অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা বলেন তারা। পরে নিজ বাসায় ফিরে যান।’

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে তার দুই বোন এবং ভাগনে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ

খায়রুল বাশার আরও বলেন, ‘আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ও তার দুই বোন বাসায় আসার কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে আসেন ভাগনে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।’

সেখানে উপস্থিত ওই পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তারা বাসায় আসার পর বেশি কোনও কথা বলেননি হাসানাত আবদুল্লাহ। তবে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ যে কথাগুলো বলেছেন, তিনি তার উত্তর দিয়েছেন মাত্র। ওই সময় দুই বোনকে হাসিখুশি দেখালেও ভাবগম্ভীর ছিলেন হাসানাত আবদুল্লাহ ও আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। আমার কাছে মনে হয়েছে এটি বলেকয়ে ডেকে আনা।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় বড় ভাই হাসানাত আবদুল্লাহর দোয়া নিতে দেখা করতে গিয়েছি।’ তবে কত বছর পর তাদের এই দেখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও কথা বলতে রাজি হননি আবুল খায়ের আবদুল্লাহ।

যদিও মনোনয়ন পাওয়ার আগে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘১৪ বছর ধরে তিনি নগরীর কালিবাড়ি রোডে বাবা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবন যেতে পারেননি। এমনকি আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরালে পৈতৃক ভিটায়ও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে নগরীর কালুশাহ সড়কের ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। সেখান থেকেই পরিচালিত হবে তার নির্বাচনি কার্যক্রম।’

এদিকে, মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ফেসবুক লাইভে যুক্ত হয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ নগরীর আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনে অবস্থানরত নেতাকর্মী ও অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলেন। 

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে তার ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ও ছোট ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহ

এ সময় তিনি বলেন, ‘চাচাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ায় বাবা ও আমি বিষয়টি মেনে নিয়েছি। আমাদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। তৃতীয়পক্ষ যাতে কোনও ধরনের সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে তোমাদের (অনুসারীদের) সজাগ থাকতে হবে।’

আবুল খায়ের আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত সহকারী রুবেল বলেন, ‘বরিশালে আবুল খায়ের আবদুল্লাহর আগমন উপলক্ষে বিশাল শোডাউন হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালে আসবেন মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। এদিন বেলা ১১টায় গড়িয়ারপাড় থেকে নগরীতে প্রবেশ করবেন তিনি।’

রুবেল ‍আরও বলেন, ‘কাশিপুর বাজার, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, বৈদ্যপাড়া, বিএম কলেজের প্রথম গেট, নতুন বাজার, ল কলেজের সামনে, জেলখানার মোড়, অশ্বিনী কুমার হল, গির্জা মহল্লার মোড় হয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাবেন আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম।’