বরিশাল সিটি নির্বাচন

গাজীপুরে বিএনপি নেতাদের বহিষ্কারের প্রভাব বরিশালে

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ায় মহানগর বিএনপির ২৯ নেতাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলীয় নেতাদের মাঝে। এরই মধ্যে অনেকে নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের আগেই বৃহস্পতিবার (১৮ মে) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন পদধারীরা। ইতোমধ্যে এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কয়েকজন। তবে এক্ষেত্রে পদে না থাকা কর্মীদের বিরুদ্ধেও একই শাস্তির কথা বলায় পড়েছেন বেকায়দায়। তারাও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন।

এদিকে, তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মহানগর বিএনপি।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া বিএনপির নেতারা হলেন—১৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আমিনুল ইসলাম আমিন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মহানগর বিএনপির ১ নম্বর সদস্য আ ন ম সাইফুল আহসান আজিম, ২২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ।

হাবিবুল্লাহ নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি মনোনয়নপত্র দাখিল করি। কিন্তু দল সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য। যেহেতু আমি যুবদলের পদে আছি তাই দলের আদেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমার পক্ষে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের সামিল। তাই ওয়ার্ডবাসীর কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

‘ওয়ার্ডবাসীর কাছে আগামী দিনগুলোতে একজন ব্যক্তি হাবিবুল্লাহ হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকার করলাম। পাশাপাশি ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সকল স্তরের জনগণের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। অতীতে আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো’ ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন হাবিবুল্লাহ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মাইনুল হক বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত আগেভাগে জানলে মনোনয়নপত্র তোলার পরিশ্রম এবং টাকা খরচ করতাম না। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবো।’ 

তবে নির্বাচন থেকে সরবেন না বলে জানিয়েছেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু। তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ডবাসী নির্বাচনে অংশ নিতে অনুরোধ করায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করতে বাধ্য হয়েছি। নির্বাচন সম্পন্ন করেই ঘরে ফিরবো।’

বরিশাল সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলের ১৩ নেতা প্রার্থী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক জাহিদুর রহমান রিপন। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে কয়েকজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বাকিরাও আগামী ২৫ মে’র মধ্যে প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন। যারা করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব কাউন্সিলর জাহিদুল করিম জাহিদ। তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচন থেকে সরে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ। আরা যারা এখনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি, তাদের দলের সিদ্ধান্ত মেনে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাই। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে। সেক্ষেত্রে পদে না থাকলেও বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না। একইসঙ্গে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে রাজপথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন তাদের ‘বেইমান’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি বিলকিস জাহান শিরীন। তিনি বলেন, ‘কারণ তারা পরিচিতি পেয়েছেন দলের জন্য, দলের জন্যই তারা জনপ্রতিনিধি হয়ে সম্মান, মর্যাদা ও অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। গাজীপুরের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাদের যে শাস্তি হয়েছে, বরিশালেও একই শাস্তি হবে। ৮৬’র বেইমান, ওয়ান-ইলেভেনের বেইমানদের ক্ষমা করা হলেও এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়াদের ক্ষমা নেই।’

বৃহস্পতিবার বিকালে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জাহিদুর রহমান রিপন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকারের অধীনে প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নেবে না বিএনপি। বরিশালে দীর্ঘদিনের নির্বাচিত সাবেক সফল কাউন্সিলরসহ অনেক নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচন বর্জন করেছেন। মহানগর বিএনপি, ওয়ার্ড ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সাবেক এবং বর্তমান পদধারী যেসব নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের তা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হচ্ছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দল। সংগঠনের সব স্তরের নেতাদের প্রহসনের এই নির্বাচনের সব কার্যক্রম ও ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি সরকার পতনসহ বিএনপির ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে সক্রিয় থাকতে হবে।