বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বিএনপি কর্মীর মার্কেটের ভাড়া তোলার পর এবার যুবদল নেতা এক দোকানে চা পান করায় ওই দোকানে তালা দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা।
শনিবার সকালে উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর কবিরাজ তার সহযোগীদের নিয়ে দোকানটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান দুলাল বলেন, গত শুক্রবার বরিশালে দলের প্রস্তুতি সভা শেষে সন্ধ্যায় গাড়িযোগে ঢাকায় রওনা হই। গৌরনদীর মাহিলাড়া বাসস্ট্যান্ডে আমার আত্মীয় জাকির হোসেনের কাঁচামালের আড়ত ও চায়ের দোকানে বসে চা পান করেছি। পরে শুনেছি, চা পান করায় দোকানটিতে তালা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা আলমগীর।
দুলাল আরও বলেন, আমি গৌরনদীতে বড় হয়েছি।তার চেয়ে বড় কথা একজন ব্যক্তি তার আত্মীয়ের কাছে যেতে পারবে না। কোন দেশে বাস করছি। আমি চা পান করায় দোকানে তালা দেওয়া হয়েছে। এটা কোন ধরনের রাজনীতি। আমরাও তো সরকারি দলে ছিলাম। এ ধরনের কোনও অভিযোগ তো আমাদের বিরুদ্ধে কেউ তুলতে পারেনি। নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।
ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, শনিবার সকালে আলমগীর কবিরাজ যুবলীগের কর্মীদের নিয়ে এসে যুবদল নেতাকে কেন আড়তে বসতে দিলাম এই জাতীয় প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন। আমি তাদের বলেছি, যুবদল নেতা নয়, আত্মীয় হিসেবে দোকানে বসতে দিয়েছি এবং চা পান করিয়েছি। এতে কোনও অপরাধ দেখছি না। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারীদের বের করে দিয়ে তালা মেরে দেন। অনুনয়-বিনয় করলেও আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান খুলে দেননি। দোকানে কাঁচামাল ও ফলমূল আছে, বন্ধ থাকলে সব পচে যাবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর কবিরাজ বলেন, জাকিরের দোকানে সমাজবিরোধী লোকজনের আড্ডা হয়। এ ছাড়া তার দোকানে অবৈধ মালামাল রেখে ব্যবসা করারও অভিযোগ আছে। এসব কারণে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই বাজারে বিএনপি কর্মী আক্কেল আলী সরদারের মালিকানাধীন মার্কেটে তালা দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন মুন্সীর নেতৃত্বে মার্কেটটিতে তালা দেওয়া হয়। ঘটনার কয়েকদিন পর ৪০টি দোকানের ভাড়া ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে দেওয়ার শর্তে মার্কেটটি খুলে দেওয়া হয়।