চুলের স্টাইল পছন্দ না হওয়ায় স্কুলছাত্রকে মারধর করলেন ইউপি সদস্যের ভাই

পটুয়াখালীতে চুলের স্টাইল পছন্দ না হওয়ায় মসজিদের সামনে এক স্কুলছাত্রকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে। মারধর অভিযোগটি উঠেছে গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বশির দফাদারের বিরুদ্ধে। ইনি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির দফাদারের ছোট ভাই।

ভিডিওটি সোমবার (২৬ জুন) সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়লে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির দফাদারকে শোকজ করেছেন।

ইউএনও মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটি ‘ওমা ওমা’ বলে আকুতি জানাচ্ছে। আর তাকে চড় থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারা হচ্ছে। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পা দিয়ে তার বুকে লাথি মারতে দেখা যায়। শিশুটির গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে হাত ধরে টানা হয়। এ সময় পাশ থেকে এক মহিলাকে “থাক মাফ করে দে,,,,” এমন শব্দ বলতে কয়েকবার শোনা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পটুয়াখালীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরকাজল নতুন বাজার জামে মসজিদের সামনে। দুই মাস পর এর ভিডিও ছড়িয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মনির মেম্বার ও তার আত্মীয়-স্বজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী সরাসরি এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযুক্ত ও তার ভাই।

ইউএনও মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ওই এলাকার নোমান নামের এক ব্যক্তি আজকে বশির দফাদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে আমার কাছে। সেটিও তদন্ত করা দেখা হবে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।