বরিশাল বিভাগে একদিনে আরও ১১০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (৭ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারা। এর ফলে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে।
এর মধ্যে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন। এ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী। বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৩৭ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিলে শনিবার থেকে শের-ই বাংলা মেডিক্যালের মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। সেখানে একসঙ্গে ৮০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা চলে আসছে। রোগীর চাপ বাড়ায় মেডিসিন বিভাগের নিচতলায় খোলা হয়েছে ডেঙ্গু কর্নার। এ ছাড়া হাসপাতালের পুরাতন ভবনের দোতলা ও তিনতলায় শিশু বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে।’
সহকারী পরিচালক আরও বলেন, ‘বরিশালের ১০ উপজেলা এবং বিভাগের পাঁচ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে ডেঙ্গু রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। যাদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না, তাদেরও শের-ই বাংলা মেডিক্যালে পাঠাচ্ছেন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কাজেই চিকিৎসকদের কাছে আমার অনুরোধ, গুরুতর না হলে ওসব রোগীকে উপজেলা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠান। এতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে।’
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ এবং মশারি হাসপাতালে রয়েছে উল্লেখ করে ডা. এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বেশিরভাগ রোগী ঢাকা থেকে বাড়ি এসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা থেকেও রোগীরা আসছেন। নগরীর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কম। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি ও বাড়ির আশপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে।’
ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ১১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন। পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। এ ছাড়া বরিশাল জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৯ জন, পিরোজপুর জেলায় ১০ জন, বরগুনায় ১৩ জন এবং ভোলায় ৮ জন ভর্তি হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘চলতি বছর বরিশাল বিভাগে আজ পর্যন্ত ৮৯৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩১ জন চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৯১ জন।’