ছাত্রলীগ নেতা শ্রমিকলীগে পদ পাওয়ায় কমিটি বাতিলের দাবিতে অবরোধ-সংঘর্ষ

বরিশাল মহানগর শ্রমিকলীগের নবঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নথুল্লাবাদ এলাকায় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। একই সময় রূপাতলী বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক অবরোধ করা হলে দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারীরা বাস টার্মিনালে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আরেকদফা সড়ক অবরোধ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা বলেন, মহানগর শ্রমিকলীগের কমিটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। সভাপতি করা হয় পরিমল চন্দ্র দাসকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইজ উদ্দিন মান্নাকে। ছাত্রলীগের এই নেতাকে কমিটিতে ক্ষুব্ধ হন বর্তমান মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এটি বাতিলের দাবিতে শুক্রবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনের মহাসড়কে আড়াআড়িভাবে বাস রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে করে দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

একই সময় কমিটি বাতিলের দাবিতে রূপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহামুদের নেতৃত্বে সড়ক অবরোধ করা হলে সেখানেও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

১১টার দিকে আকস্মিকভাবে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিক নেতা লিটন মোল্লার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে নেতাকর্মীরা প্রবেশ করেন। এ সময় মহানগর শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি আফতাব হোসেনের অনুসারীরা বাধা দিলে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় টার্মিনালের সামনের মহাসড়কে আবারও বাস রেখে অবরোধ করা হয়। আবারও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মহানগর শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি ও নথুল্লাবাদ বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আফতাব হোসেন বলেন, ছাত্র নেতা আবার শ্রমিক নেতা হয় কীভাবে। বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ শ্রমিকলীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টিতে ওই কমিটি গঠন করে বলে অভিযোগ করেন। বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা ও কর্মীদের বাদ দিয়ে প্রকৃত শ্রমিকদের নিয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, লিটন মোল্লার নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে। লিটন সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী। তার ইন্ধনে হামলা হয়েছে।

লিটন মোল্লা দাবি করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আফতাবের গুণ্ডাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে আমরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে এ হামলা চালানো হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। তবে বর্তমানে বাস টার্মিনাল এলাকার পরিস্থিতি এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

জানা গেছে, গত ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের দুই কর্মীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকির মামলায় ১৩ অনুসারী নিয়ে ২৯ দিন কারাভোগ করেন আফতাব হোসেন মান্না। এর আগেই কেন্দ্র থেকে মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

অভিযোগ আছে, নির্বাচনে খোকন সেরনিয়াবাত জয়ী হলে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণ নেন বিতাড়িত বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এতে ‍ওই দুই টার্মিনাল হাতছাড়া হয় সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ পন্থিদের।