বাবা ও বড় ভাইকে নিয়ে বাবার চিকিৎসার বরিশালে যাচ্ছিলেন রাসেল মোল্লা। ঝালকাঠির ছত্রকান্দায় বাস দুর্ঘটনায় তিনি বাসের জানালা দিয়ে বের হতে পারলেও বাবা ও বড় ভাই ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শনিবার (২২ জুলাই) সকালে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া-বরিশালগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ঝালকাঠির ছত্রকান্দা এলাকায় মোড় ঘুড়তে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। এসময় ১৭ জন যাত্রী নিহত হন। এদের মধ্যে ৮ জনের বাড়ি ভান্ডারিয়া উপজেলায়। এরা সবাই বরিশালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন।
নিহতরা হচ্ছেন দক্ষিণ ভান্ডারিয়ার পান্না বেপারীর ছেলে তারেক বেপারী (৪২), উত্তর পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামের ছালাম মোল্লা (৬৫) ও তার ছেলে শাহীন মোল্লা (২৫), পশারী বুনিয়া গ্রামের জালাল হাওলাদারের মেয়ে সুমাইয়া (৬), পূর্ব ধাওয়ার (পোদ্দার খাল) রহিমা বেগম (৭০) ও তার ছেলে আবুল কালাম হাওলাদার (৫০), উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের ফজলুল হক মৃধার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৭৫) ও তেলিখালী গ্রামের রাসেল সিকদারের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার (২৪)।
নিহত সালাম মোল্লার ছোট ছেলে রাসেল মোল্লা বলেন, ‘বাবা ও বড় ভাইকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বরিশালে যাচ্ছিলাম। চালকের পেছনের ছিটেই বসা ছিলাম। বাস ছাড়ার পর থেকে বাসের চালক বাড়তি যাত্রী ওঠানোর জন্য বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলেন। বাসের ছাদেও যাত্রীবোঝাই ছিল। গাড়িটি ছত্রকান্দা বাসস্ট্যান্ড পার হওয়ার পরই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে চাকা ফেটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে। বেশিরভাগ যাত্রী পানিতে ডুবে মারা যান, বহু যাত্রী আহত হন। আল্লাহর রহমতে আমি বাসের জানালা দিয়ে বের হয়ে বেঁচে যাই। কিন্তু ঘটনাস্থলেই বাবা ও বড় ভাই মারা যান।’
নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মা মাহিনুর বেগম ও স্ত্রী নাজমা আক্তার বার বার অচেতন হয়ে পড়ছেন।
ভান্ডারিয়া বাজারের নিহত ওষুধ ব্যবসায়ী তারেক বেপারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী কেয়া অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। শ্বশুর কামাল হোসেন জানান, ছেলে মাহাদিকে (৭) নিয়ে চিকিৎসার জন্য বরিশাল যাচ্ছিলেন তারেক। শিশুটি বেঁচে গেলেও তার বাবা ঘটনাস্থলে মারা যান।
নিহত ৬ বছরের শিশু কন্যা সুমাইয়ার মা পিয়ারা বেগম বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসা জন্য বরিশাল যাচ্ছিলাম। পথে বাসটি উল্টে পুকুরে পড়ে যায়। আমি কোনও রকমে জানালা দিয়ে মাথা বের করে মেয়েটিকে হাতের কাছে পেয়ে তাকে নিয়ে বের হই। ততক্ষণে দেখি সে মৃত।’
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম জহিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৮ জনের বাড়ী ভান্ডারিয়ায়।