নামের পাশে এমবিবিএস-এফসিপিএস লাগিয়ে রোগী দেখছেন এক প্রতারক

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাব থেকে ভুয়া চিকিৎসকসহ তিন জনকে আটকে পুলিশে দিয়েছেন এক চিকিৎসক। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাতে তাদের আটক করা হয়।

আটক ভুয়া চিকিৎসক ইমরান হোসাইন রানা নারায়ণগঞ্জের পাগলা পূর্বপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। কিছুদিন ধরে কনিকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবে চেম্বার শুরু করেন।

রানা নিজেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার পরিচয় দিয়ে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার ব্যবস্থাপত্রের প্যাডে এমবিবিএস (বিসিএস স্বাস্থ্য), ইএফএইচ (ইন্ডিয়া), এফসিপিএস (মেডিসিন), সিসিডি (বারডেম) ঢাকা উল্লেখ রয়েছে।

অপর আটক ব্যক্তিরা হলেন- ল্যাবের এক্স-রে টেকনিশিয়ান সোহরাব ও তার সহকারী আব্দুর রাজ্জাক।

রোগীর স্বজন মো. হানিফ বলেন, মঙ্গলবার রাতে কলাপাড়া থেকে তার মা জয়ফুল বেগমকে ডাক্তার দেখাতে ওই ল্যাবে নিয়ে আসেন। আনার পর ল্যাবের দায়িত্বরত তার মায়ের রোগীর ধরন শুনে রানাকে দেখাতে বলেন। তখন তিনি তার শরণাপন্ন হন। মায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। ওই ব্যবস্থাপত্র দেখাতে গেলে অপর চিকিৎসকরা বিষয়টি ধরে ফেলেন। এরপর তারা তার ডাক্তারি পাসের কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় পরিচয়পত্র এবং কিছু কাগজপত্র দেখান। তবে তা সঠিক না থাকায় পুলিশ ডেকে আনেন ল্যাবের চিকিৎসকরা।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেল ফিজিশিয়ান ডা. রিফাত আহমেদ বলেন, ওই ল্যাবে তারও চেম্বার আছে। রানার ব্যবস্থাপত্র দেখে তার সন্দেহ হয়। পরিচয় জানতে চাইলে তার পরিচয়পত্র ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখান। কিন্তু তা দেখে ভুয়া মনে হয়। এ সময় অন্য চিকিৎসকদের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, কনিকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাব থেকে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। এর সঙ্গে ওই ল্যাবের এক্স-রে টেকনিশিয়ান এবং তার সহকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।