মীমাংসার শর্তে ধর্ষণ মামলায় জামিন পেলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

প্রতারণার মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তাকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলা থেকে মীমাংসার শর্তে জামিন পেয়েছেন ১০ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে পুলিশ সদরদফতরে কর্মরত আছেন।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বিকালে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে জামিন দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেঞ্চ সহকারী হুমায়ন কবির।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শিক্ষাজীবনে একসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। বরিশাল আসার পর দুই জনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। বিষয়টি নারী কর্মকর্তার স্বামী জানতে পেরে তাকে তালাক দেন।

তিনি জানান, ওই তালাকের পর ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ১০ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বাংলোতে ‘ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী’ ওই নারী কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অংশ তারা অংশ নিতেন। গত বছর মার্চ মাসে ফেরদৌসের প্রথম স্ত্রী তার সন্তানসহ ওই বাংলোতো যান। খবর পেয়ে নারী কর্মকর্তাও সেখানে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ফেরদৌসকে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য চাপ দেন। এ সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা বাদীকে মারধর করেন।

বেঞ্চ সহকারী মামলার ‍এজাহারের বরাত দিয়ে ‍আরও বলেন, ২০২২ সালের ২৫ জুলাই গুলশানের এক বন্ধুর বাসায় তাদের বিয়ে নিবন্ধন হয়। পরে তারা বরিশালে ফিরে আসেন। একই বছরে ৮ অক্টোবর ফেরদৌস বরিশাল থেকে বদলি হয়ে চলে যান। এরপর যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের কথা ‘ভুলে যেতে’ বলেন এবং বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেন প্রেমিকাকে। ওই বছরের ২০ নভেম্বর স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে ওই নারী আইনি নোটিশ পাঠান। জবাব না পেয়ে ২৭ নভেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেন। পরে পুলিশের পরামর্শে আদালতে মামলা করেন ওই নারী।

তিনি আরও জানান, এরপর ওই নারী বাদী হয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় পুলিশ কর্মকর্তাকে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। ওই সমন জারির নির্ধারিত দিনে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আপস মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে বিচারককে জানান। বিচারক মীমাংসার শর্তে তাকে জামিন দেন।