মোবাইল দেখে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দেওয়া ৩ জনকে কারাদণ্ড

প্রথম ধাপের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মোবাইল দেখে অবৈধভাবে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে এক কেন্দ্র থেকে তিন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এরপর তাদেরকে এক সপ্তাহ করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মির্জাগঞ্জ উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান ও দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজ নীরা।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে ওই তিন পরীক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী সদর থানার ওসি তদন্ত আসাদুর রহমান। এর আগে পরীক্ষা চলাকালে পটুয়াখালী ইসহাক মডেল ডিগ্রি কলেজর এক কক্ষ থেকে তাদের তিন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইলে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করার অভিযোগে ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজ নীরা।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীরা হলেন, কলাপাড়া উপজেলার হলদিবাড়িয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রুম্মান (২৯), মির্জাগঞ্জ উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের আবদুর রব মিয়ার মেয়ে ইতি মনি (২৭) ও একই উপজেলার আমরাগাছিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে মরুফা আক্তার (৩০) এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তার নাম জানা যায়নি।

ইউএনও ও ম্যাজিস্ট্রেট নাফিসা নাজ নীরা বলেন, পরীক্ষা চলাকালে আমাকে দেখে এক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে বলে এই কক্ষে মোবাইল দেখে কেউ কেউ সুবিধা নিচ্ছেন। পরে আমি দরজা বন্ধ করে কক্ষে অভিযান চালিয়ে তিন পরীক্ষার্থীকে অ্যান্ড্রয়েড ফোনসহ আটক করেছি। একজনের ফোনে প্রশ্নের উত্তর ওপেন করা ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পরীক্ষার কেন্দ্রে আসেন। পরে তাদের তিন জনকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রশ্ন কারেকশন করে যারা কেন্দ্রে সরবরাহ করেছে, সেই চক্রের দুই সদস্যকে তখনই শনাক্ত করা হয়েছে। একজন মির্জাগঞ্জ উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড সুপারভাইজার অন্যজন ওই ব্যাংকের মাঠ সহকারী। তাদের দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে প্রশাসন।

পুলিশ বলছে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য একজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থানায় এজাহার হয়নি।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি তদন্ত আসদুর রহমান বলেন, যে তিন জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সে থানা হেফাজতে রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।