৮ বাসে মানুষ নিয়ে এমপির সঙ্গে দেখা করলেন শ্রমিকনেতা, ক্ষমা চেয়ে পেলেন রক্ষা

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বরগুনা-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে সহস্র নেতাকর্মী নিয়ে থ্রি হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন সাক্ষাৎ করেছেন। এই ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পেলেন ওই শ্রমিক নেতা।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে আমতলী উপজেলা থেকে ৭-৮টি যাত্রীবাহী বাস নিয়ে বরগুনায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এমপি শম্ভুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন শ্রমিক নেতা ও আমতলী থ্রি হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন। এ সময় তিনি নির্বাচন আচরণ বিধিমালার তিনটি ধারা লঙ্ঘন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরগুনা পৌর শহরের উপর দিয়ে ৭-৮টি বাস নিয়ে ওই এমপির বাসভবন উপজেলা পরিষদ এলাকার দিকে যান। বাসগুলো পৌর শহরের মধ্যে দিয়ে শম্ভুর বাসার দিকে যাওয়ার সময় শহরের মধ্যে যানজট সৃষ্টি হয়। যা নির্বাচনি আচরণ বিধিমালার আট ধারার লঙ্ঘন। এরপর সেখানে গিয়ে তিনি গাড়িগুলো বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ এলাকায় পার্কিং করে রেখে নেতাকর্মীদের নিয়ে এমপির বাসভবনে যান। যা আচরণ বিধিমালার চার ধারার লঙ্ঘন।

সেখানে অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত জনসভায় অংশ নেন তারা। জনসভার একটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে এই প্রতিবেদকের কাছে। সেখানে এমপির উপস্থিতিতে নৌকার সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের।

একই সময় বরগুনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও শ্রমিক নেতা মনিরুজ্জামান জামালকে বলতে দেখা যায়, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগ একটু দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকতে পারে। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে ৭ তারিখ নির্বাচনের জন্য আমরা নৌকার জন্য কাজ করবো। আজকে থেকে আমরা মাঠে ঘাটে আত্মীয় স্বজন যে যেখানে থাকুক না কেন সঠিকভাবে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ নৌকা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। আমরা যদি ৭ তারিখ নৌকাকে জয়লাভ করাতে পারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ফুল মন্ত্রী উপহার দিবে।

এরপরই বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের আগে যা আচরণ বিধিমালার ছয় ধারার লঙ্ঘন।

উপজেলা পরিষদের মধ্যে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়টি নজরে এলে সেখানে প্রথমে সহকারী কমিশনার ভূমি চন্দন কর উপস্থিত হয়ে তাদের গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে সেখানে উপস্থিত হন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম মিঞা। আগত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে জানানো হলে থ্রি হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন এই বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলে মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে রেহাই পান।

এ বিষয়ে থ্রি হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম খোকন বলেন, আমি ওমরাহ করে  দাদার (আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) সঙ্গে দেখা করতে আসছি। আমি  শ্রমিক নেতা, আমার সংগঠনের  শ্রমিকরাও আমার সঙ্গে দাদার  কাছে আসতে চাইলে ৫-৬টি বাসে এক হাজারের ওপরে লোক নিয়ে আসছিলাম। আচরণ বিধিমালার বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিম মিঞা বলেন, আমতলী  থেকে জহিরুল ইসলাম খোকন নামের এক ব্যক্তি ৭-৮টি বাসে করে অনেক লোক নিয়ে এমপির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে যেহেতু আচরণবিধির একটি বিষয় থাকে তাই আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখি। তিনি বিধি তিনটি ধারা লঙ্ঘন করেছেন। বিষয়টি আমরা তাকে জানালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় আমরা প্রথমবারের মতো ক্ষমা করেছি।