পিরোজপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজের স্বাক্ষর জাল করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে একটি চক্র। এ ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কার্যালয়, বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছেন মহিউদ্দিন মহারাজ।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ৩ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আমার স্বাক্ষর জাল করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন ১৭ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারে। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি। এ অবস্থায় সশরীরে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত আমার পক্ষে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করলে, তা গ্রহণ না করতে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসকে অনুরোধ করছি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বৈধতা পান। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কানাই লাল বিশ্বাস।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে (জেপি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কানাই লাল বিশ্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের সাতটি আসন শরিক দলকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুর-২ আসনটিও রয়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা রাজনীতির বৃহৎ স্বার্থে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমি তা মেনে নেবো।
তবে কানাই লাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজ।
তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে আমি নির্বাচন করবো। এজন্য একটি চক্র আমার স্বাক্ষর জাল করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অপচেষ্টা করছে। এজন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছি। কোনও অবস্থায় আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবো না।
এই প্রার্থীর অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, কোনও প্রার্থীর জাল স্বাক্ষর দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। যা হবে আরপিও আইন অনুসারে হবে।