পিরোজপুরে আ.লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

পিরোজপুরে আ.লীগ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালের দিকে সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের কদমতলা বাজারে  এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আউয়ালের ভাতিজা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির মুজিব আবিরের অভিযোগ, নেতাকর্মীদের নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়ন থেকে থেকে আমার ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর মুজিব অভি পিরোজপুরে ফিরছিল। অভিকে বহনকারী দুটি মোটরসাইকেল কিছুটা আগে চলে আসে। এ সময় কদমতলায় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বায়েজিদ হোসেনের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। অভির সঙ্গে থাকা রনি দাসকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা অভি এবং তার সঙ্গে থাকা স্মরণ চক্রবর্তীকে পিটিয়ে আহত করে।

খবর পেয়ে অভির সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা চলে যায়। এরপরে অভিসহ আহত তিন জনকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে দুই জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরে স্বতন্ত্রপ্রার্থী এ কে এম এ আউয়ালের কর্মীরা (অভির অনুসারীরা) জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজলের নড়াইলপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা ও শহরের কালিবাড়ী সড়কে থাকা ছাত্রলীগের অফিসে হামলা চালায়। এ সময় পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ছাব্বির হোসেনকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। আহত ছাব্বির হোসেনকে চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে সেখানে চিকিৎসা দিতে বাধা দেওয়াসহ হাসপাতালে ভাঙচুর করে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজল জানান, তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শ ম রেজাউলের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ জন্য তার বাসা ও অফিসে হামলা চালানো হয়েছে।  হামলায় আহতদের ৩ জনকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। আহত নাছিমা বেগম (৩৮) জানান, তার স্বামীর অটোরিকশা ভাঙচুর ও মারধরসহ তাকেও মারধর করা হয়েছে।

জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান ফুলু বলেন, ‘বিকাল ৩টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আ.লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের পুত্র আবদুর রহিম ও ভাইয়ের (সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান খালেকের ছেলে) ছেলে তৌকির মুজিব আবিরের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাসে করে কিছু যুবক অস্ত্র নিয়ে পৌর শহরের বসন্তপুল এলাকায় থাকা তার ভাড়া বাসার সামনে গিয়ে তিন থেকে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে এবং পটকা ফাটিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। বাসার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় হামলাকারীরা বাসার ভেতরে ঢুকতে না পেরে গেটে লাথি ও ইটপাটকেল মেরে চলে যায়।’

কদমতলা বাজারের ব্যবসায়ী কালু মোল্লা জানান, দুপুরে কিছু সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে বাজারের   জাহাঙ্গির শেখের হার্ডওয়ারের দোকান, কালু মোল্লার তেলের দোকান, জব্বারের মুদি দোকান, এনায়েতের গ্যারেজ, তপন শাহার মিষ্টির দোকানসহ ৬টি দোকানে ভাঙচুর করে।

সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এসএম বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমার শহরের বলাকা রোডের বাসায় হামলা করে। এ ছাড়া জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ও সাবেক ভিপি শিকদার চাঁনের বাসার সামনে গিয়ে ফাঁকা গুলি করে।’

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে শহরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সুপার শহর পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর-১ (নাজিরপুর, পিরোজপুর সদর ও ইন্দুরকানী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। আর স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল।