বরগুনা খাকদোন নদীর ওপরে মাছ বাজার থেকে লাকুরতলাসহ কয়েকটি ইউনিয়ন ও বামনা উপজেলার মানুষের পারাপারের একমাত্র ব্রিজটি এখন ভাসমান বাজারে পরিণত হয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত পথচারীদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্রিজটির দুই পাশে বসে কাঁচাবাজার। আবার বিকাল হলেই ভ্যান গাড়িতে ফুচকা, চটপটি, জুতা, ফল ও কাপড়ের ভ্রাম্যমাণ বাজার বসে। ফলে ব্রিজটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল ও মানুষ চলাচলে হচ্ছে ভোগান্তি।
পথচারী রাজিব হোসেন বলেন, আমাদের বরগুনা শহরে ওঠার একমাত্র পথ হলো এই ব্রিজটি। সেই ব্রিজটি এখন বাজারে পরিণত হয়েছে। যার ফলে আমাদের চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে, তাই প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ যাতে অতি শিগগির ব্রিজের ওপর থেকে এই বাজার অপসরণ হয়।
স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীরা বলেন, আমাদের স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ব্রিজটিতেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা রকমের হাট বাজার বসে। যার ফলে স্কুলে যাওয়ার পথে মানুষের ভিড়ে পড়তে হয় এবং ব্রিজে পড়ে থাকা মাছের পানিতে পোশাকও নষ্ট হয়। ফলে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আমরা চাই, পৌর মেয়র ও প্রশাসনের মাধ্যমে অতিদ্রুত ব্রিজের ওপর থেকে এ বাজার অপসরণ করা হবে।
পথচারী রিপন মিয়া বলেন, আমাদের বাজারে যেতে হলে একমাত্র এই ব্রিজের ওপর দিয়েই যেতে হয়। তবে এই ব্রিজের দুই পাশে দোকান থাকার কারণে চলার সময় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যায়, এমনকি গাড়ি পারাপার হলেও অনেক সময় ধাক্কা লেগে যায়। যেকোনও সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, তাই অতি দ্রুত এই ভাসমান বাজার নির্ধারিত স্থানে নেওয়া উচিত।
কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আল আমিন হোসেন বলেন, আমাদের কাঁচাবাজারের জন্য নির্ধারিত ঘর রয়েছে, কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে এই ব্রিজে হাট বসে। আমি কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইলে তারা আমাকে মামলা হামলার ভয় দেখায়। তবে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নির্ধারিত স্থানেই বাজার বসবে।
এ ছাড়া দক্ষিণ পাড়ে মাছ ভর্তি ট্রাক প্রতিদিন রাতে ব্রিজের উপর মাছ খালাস করে। এর ফলে মাছের পচা পানি রোদে শুকিয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও ব্রিজের দুই প্রান্তে রয়েছে মোটরসাইকেল, মিশুক ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড।
স্ট্যান্ডটির রিকশাচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডের সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। তারা বলছেন, আমাদের নির্ধারিত স্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও ব্রিজের অভিগমন পথে যাত্রী সংগ্রহে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসন সব সময় মাঠে রয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে তারা প্রশাসন চলে গেলে আবার ব্রিজ দখল করে। তবে আমাদের মোবাইল কোর্ট অব্যাহত রয়েছে।