বরিশালে জামানত হারালেন সাবেক তিন এমপিসহ ২৫ প্রার্থী

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনের বেসরকারি ফলে ৩৫ প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জন জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে তিন জন সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন। এই জামানত থেকে সরকারের আয় হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা।
 
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে ১৬ জন জাতীয় পার্টি, এনপিপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, তৃণমূল বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস ও জাসদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এছাড়া ৯ জন রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
 
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিন জন। এর মধ্যে নৌকার প্রার্থী জিতেছেন। বাকি জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের সেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আম প্রতীকের মো. তুহিনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। 
 
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জামানত হারালেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের গামছা প্রতীকের নকুল কুমার বিশ্বাস, জাতীয় পার্টির প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন, তৃণমূল বিএনপির শাহজাহান সিরাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাহেব আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম। এই আসন থেকে জোটের নৌকা প্রার্থী বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হকের নাতি একে ফাইয়াজুল হক রাজুর জামানত রক্ষা পেয়েছে।
 
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শেখ টিপু সুলতান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আজমুল হাসান জিহাদ, তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেন ও স্বতন্ত্র আমিনুল হক। এই আসনে জোটের প্রার্থী বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের জামানত রক্ষা পেয়েছে।
 
বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমান ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু। এই আসনে নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। বাকি দুই প্রার্থী জামানত হারান।
 
বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর) আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আব্দুল হান্নান সিকদার, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আসাদুজ্জামান ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহাতাব হোসেন। এই আসন থেকে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন ছাড়া বাকিরা জামানত হারিয়েছেন।
 
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ছিল বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে। এখানে জামানত হারিয়েছেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা, তৃণমূল বিএনপির টি.এম. জহিরুল হক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোশাররফ হোসেন, জাসদের মোহম্মদ মোহসীন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাইনুল ইসলাম, স্বতন্ত্র শাহবাজ মিঞা, কামরুল ইসলাম খান, জাকির খান সাগর ও মোহাম্মদ শামসুল আলম। এই আসনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চ্ন্নুু ছাড়া বাকিদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
 
জামানত হারানোর বিষয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি নির্বাচনের আইন। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করিনি। যে মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছি, তার আগেই ব্যালটে আমার নাম উঠে গেছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে আমি প্রার্থী। এই কারণে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি আমাকে মেনে নিতে হবে। 

একই কথা বলেছেন বরিশাল-৫ আসনের বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মৃক্তিজোটের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান।
 
জামানত হারানো বরিশাল-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়াই। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ভোট না পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তা আমি মেনে নিয়েছি।
 
বরিশাল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী কোনও প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের (কাস্টিং ভোট) আট ভাগের এক ভাগ থেকে অন্তত একটি ভোট বেশি পেতে হবে। কিন্তু এসব প্রার্থী প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। সেক্ষেত্রে জামানত বাবদ দেওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।