স্থানীয়ভাবে পাচারকারী তিনটি চক্রের সন্ধান পেলেও আরও কিছু চক্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দালাল চক্রের একটি হচ্ছে পাথরঘাটার মহিউদ্দিন এবং অপর দুটি বাগেরহাটের সাইফুল ও রায়েন্দার জাহাঙ্গীর।
মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, গত দেড় থেকে দুই বছরে পাথরঘাটা থেকে প্রায় তিন শ লোক বেশি বেতনে কাজের জন্য দালাল চক্রের মাধ্যমে ভারতে পারি জমিয়েছে। পরে এদেরকে জিম্মি করে মুক্তিপণের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ভারতীয় পুলিশের হাতে ধরা পরে জেলে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে গিয়ে পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকার এ পর্যন্ত ২৩ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের কয়েক জন মুক্তিপণের মাধ্যমে ফিরে এসেছে। বাকিরা ভারতের বিভিন্ন জেল ও দালাল চক্রের হাতে বন্দী রয়েছে। এদের মধ্যে চরদুয়ানীর রনী গাজি, আমেনা খাতুন, খোকন পহলান, নবী হোসেন, তামান্না, মুন্নী বেগম, বেলায়েত কাজী, লাচ্চু বেগম এবং পাথরঘাটা সদরের ইব্রাহীম মিয়ার নাম পাওয়া গেছে।
মুক্তিপণের মাধ্যমে বাড়ি ফেরত এসেছে, কোরালিয়া গ্রামের মিজান ফরাজি, জসিম গাজী, হারিটানার ইব্রাহীম হাওলাদার, সামিম প্যাদা, বসির খা, পদ্মা গ্রামের জামাল আকন, বাদুরতলার ইসমাইল,পশ্চিম বাদুরতলার বেলাল ফকির, তাফালবাড়ীয়ার কবির সিকদার এবং ছোট টেংরার দুলাল হাওলাদার।
হারিটানা গ্রামের মো. শামিম মুক্তিপণে ফিরে এসে বলেন, এলাকার দালাল মহিউদ্দিন ফোনে চাকরির জন্য ভারতে যাওয়ার কথা বলে। পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। এরপর ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে সাতক্ষীরা যাই। সেখান থেকে বর্ডার পার হয়ে ভারতে পৌঁছাই। সীমান্তের ওপারে গিয়ে অন্য দালালের মাধ্যমে তামিলনাড়ুতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখা হয় এলাকার দালাল চক্রের মূলহোতা মহিউদ্দিনের সঙ্গে। কাজও দেন তিনি। কিন্তু মাস শেষে টাকা দেন না। খাবারের জন্য যে টাকা দরকার সেই টাকা ছাড়া অন্যকোনও টাকা দেওয়া হয় না। বাড়িতে টাকা পাঠাবো এমন কথা বলে টাকা চাইলেই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। প্রায় একবছর পরে বাড়ি আসার কথা বললে আবার টাকা দিতে হবে বলে জানায়। টাকা না দিলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। বাড়িতে টাকার জন্য অনুরোধ করে মুক্তিপণ দিয়ে দালালের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসি।
পাথরঘাটার হারিটানা গ্রামে মহিউদ্দিনের বাড়িতে গেলে তার ঘরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। পাশের বাড়ির লোকজনের মধ্যেমে জানা যায়- তার স্ত্রী মরিয়ম পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরে শুনছি এখান থেকে কিছু লোক পাচার করছে বেশ কয়েকটি দালাল চক্র। উপজেলা পরিষদের মধ্যেমে আমরা এলাকার সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে ভারতে আটককৃতদের উদ্ধারেও বিভিন্নভাবে যোগযোগ করা হচ্ছে।
বরগুনা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা পাথরঘাটা থানায় মামলা দায়ের করেছে যার তদন্ত চলছে। আমরা দালালদের ধরার জন্য চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত এ চক্রকে ধরা সম্ভব হবে।
/এআর/এএইচ/