বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের সময় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ১৮ রোগী। আগুনে তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত জাহিদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী নার্স নার্গিস ও মঞ্জু গাইন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্টোররুম থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়। একপর্যায়ে আগুন জ্বলে ওঠে। ওই সময় স্টোররুমের পাশে থাকা ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডে ১৮ রোগীর ডায়ালাইসিস চলছিল। আগুন দেখে রোগী এবং ওয়ার্ডের দায়িত্বরতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের ওয়ার্ড থেকে বের করে আনা হয়। একই সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। এরপর ফায়ার সার্ভিস পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের নার্স আল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুনের চেয়ে ধোঁয়ায় পুরো ওয়ার্ডে অন্ধকার নেমে আসে। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে ডায়ালাইসিস মেশিন লাগানো ছিল। তারা কোনোভাবে সেখান থেকে বের হতে পারছিলেন না। তড়িঘড়ি করে তাদের শরীর থেকে মেশিন আলাদা করে ওয়ার্ডের সামনে নিয়ে আসি আমরা। পরবর্তীতে তাদের বাড়ি যেতে বলা হলে স্বজনরা নিয়ে যান। কারও কোনও ক্ষতি হয়নি।’
বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ধারণা করছি, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট অথবা স্টোররুমের বারান্দা থেকে কেউ সিগারেটের আগুন ফেলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে তদন্ত না করে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আগুনে তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। রোগীরা নিরাপদে বাসায় ফিরেছেন।’
হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এরপরও আসল ঘটনা জানতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের উপপরিচালক মনিরুজ্জামান শাহিনকে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
১৯৬৮ সালে নির্মিত হাসপাতালের বিদ্যুতের তার ও লাইনের অবস্থা ভালো নয় জানিয়ে পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এজন্য একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রকল্পে হাসপাতালের অভ্যন্তরের পুরোনো সব তার ফেলে নতুন তার দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে কাজের পর এ ধরনের বিদ্যুতের শর্টসার্কিটে আগুনের সূত্রপাত এবং আতঙ্ক থেকে রক্ষা মিলবে।’