ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালিয়ে চেয়ারম্যানের পা ভেঙে দিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার উদ্দিন মোল্লার ওপর হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সোমবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের ভবনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন চেয়ারম্যান। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আনসার উদ্দিন মোল্লা আত্মগোপনে ছিলেন। কয়েকদিন হয়েছে তিনি এলাকায় ফিরেছেন। সোমবার বিকালে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে যান এবং দাফতরিক কাজ শুরু করেন। বিকাল ৫টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন মানুষ ওই কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়। তারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দোতলায় উঠতে থাকেন। পরিস্থিতি খারাপ দেখে চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন নিজেকে রক্ষার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের তিনতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে হামলার শিকার হন। পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেওয়া হয়।

গুরুতর আহত ইউপি চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন এসে হামলা চালায়। সবার হাতে লাঠিসোঁটা ছিল। আমি ইউনিয়ন পরিষদের দোতলায় অবস্থিত কার্যালয়ে বসে কাজ করছিলাম। তারা ভবনটির নিচে অবস্থান করতেছিল। হামলা হবে বুঝতে পেরে আমি দৌড়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের তিনতলায় গিয়ে একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে বেধড়ক পিটিয়েছে। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আমার ডান পা ভেঙে দিয়েছে তারা।’

চেয়ারম্যানের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, ‘হামলায় তার ডান পা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। পায়ের অবস্থা এমন হয়েছে, এখন ঝুলে আছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

কারা হামলা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘তারা সবাই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী। আমি তাদের সবাইকে চিনি। আমার এলাকার লোকজন সবাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম হাওলাদার বলেন, ‘ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল শিকদার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আসার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। ওই সময় সেখানে চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। কারা তার ওপরে হামলা চালিয়েছে, আমার জানা নেই। আমাদের কোনও লোকজন তার ওপর হামলা করেনি।’

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। কারা হামলায় জড়িত, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’