পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যুবদল নেতার করা এক মামলায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে জামিন দেওয়ায় আদালতে হট্টগোল করেছেন বিএনপির আইনজীবীরা। তাদের চিৎকার ও শোরগোল শুরু হলে বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান বিচারক।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ রায়ের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের পরিদর্শক মো. মহিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২৮ আগস্ট কলাপাড়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট, বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৭৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। মহিপুর থানা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম রিপন বাদী হয়ে মহিপুর থানায় এ মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ রায়ের আদালতে ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে শুনানিতে অংশ নেওয়া বিএনপির আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করে এজলাসে হট্টগোল শুরু করেন। তাদের চিৎকার ও শোরগোল শুরু হলে বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান বিচারক। এতে আরও কয়েকটি মামলার কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়।
পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি ও কলাপাড়া আদালত আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান চুন্নু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা হলেও আদালতে আজ যারা আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় আদালত সন্তুষ্ট হয়ে জামিন মঞ্জুর করেন। এতে বিএনপির আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করলে বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান বিচারক। আদালতে এসব করলে বিচারকার্য বিঘ্নিত হয়।’
উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী খন্দকার শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এই আদালত জামিন দিতে পারেন না। এরপরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের আইনজীবীর সঙ্গে বিচারকের সুসম্পর্কের কারণে জামিন দিয়েছেন। এতে আমরা আদালত বর্জন করেছি।’
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এর আগে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কোনও মামলায় বিএনপির কোনও নেতাকর্মীর এই আদালত থেকে জামিন করাতে পারিনি আমরা। উচ্চ আদালতের আদেশে এক-দেড় মাস কারাবাসের পর শর্ত-সাপেক্ষে জামিন করাতে হয়েছিল। সে হিসেবে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কোনও মামলার জামিন দিতে পারেন না বিচারক।’