নাজিরপুরে অপরাধী স্বামীর চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা স্ত্রীর

পিরোজপুরের নাজিরপুরে মাহাবুব নামে এক পেশাদার অপরাধীর চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছেন তার স্ত্রী ফজিলা বেগম। আহত মাহাবুবকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, রবিবার দুপুরে অভিযুক্ত ফজিলাকে আটক করেছে পুলিশ।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন বলেন, মাহাবুবের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলায়। তিনি মালিখালী ইউনিয়নের টুথবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। শনিবার রাতে ফজিলা বেগম লোকজন নিয়ে মাহাবুবের দু’চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

চিকিৎসাধীন মাহাবুব জানান, রাতে তার স্ত্রী, শ্যালক আজগর, ফাইজুল ও বাবুল একত্রিত হয়ে তার হাত, পা বেঁধে দু’চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে নাজিরপুর উপজেলার শেখ মাটিয়া ইউনিয়নের খেজুরতলায় মোয়াজ্জেম হোসেনের মাছের ঘেরে থাকতাম। একটি মামলায় পিরোজপুর জেলা কারাগারে হাজতবাসের সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয়। গেল ৮ মার্চ খেজুরতলা এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ড হলে আমি শ্বশুরবাড়িতে চলে আসি। চোখ উপড়ানোর চেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রী ফজিলাকে নিয়ে অন্যত্র যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার সঙ্গে যেতে রাজি হয়নি। এ কারণে ফজিলা তার ভাইদের নিয়ে আমার চোখ উপড়ানোর চেষ্টা চালায়।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হুমায়ূন রাজীব জানান, রবিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মাহাবুবকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন চোখে দেখতে পারছেন না। এ হাসপাতালে তার চোখের চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাকে খুলনায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে লোকজন না থাকায় তিনি এখনও হাসপাতালেই আছেন।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মাহাবুবের স্ত্রী ফজিলাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীর ওপর হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ওসি আরও জানান, মাহাবুব একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে মঠবাড়ীয়া থানায় দুটি মামলা আছে।

 

/বিটি/টিএন/