সাবেক প্রতিমন্ত্রীকে আদালতে তোলার আগেই কাউন্সিলরসহ দুজনকে মারধর

বরিশাল আদালত চত্বরে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের সমর্থকদের বিএনপির নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন ও আওয়ামী লীগ কর্মী শাহরিয়ার শাকিব রাজিব আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জাহিদ ফারুককে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক নুরুল আমিন।

জাহিদ ফারুক বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তাকে রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত ৪ আগস্ট বরিশাল নগর বিএনপি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় হওয়া একটি মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাহিদ ফারুককে সকালে বরিশালের আদালতে হাজির করা হবে এমন খবরে সকাল থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসমর্থিত আইনজীবী এবং সমর্থকরা আদালতে অবস্থান নেন। দুপুরে ফারুকের সমর্থক কয়েকজন নেতাকর্মী আদালত চত্বরে উপস্থিত হন। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দুপুরের দিকে আদালত চত্বরে যান। সেখানে শাহরিয়ার শাকিব রাজীবকে মারধর করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিকাল ৪টার দিকে আদালতে যান বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জাহিদ ফারুকের সমর্থক মো. জয়নাল আবেদীন হাওলাদার। এ সময় আদালত চত্বরে একদল যুবক তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে দৌড়ে গিয়ে আদালতের ভেতরে আশ্রয় নেন।

জয়নাল আবেদীন হাওলাদার বলেন, ‘বিএনপির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমাকেসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছি আমরা। সেই জামিনের কাগজ আদালতে জমা দেওয়ার জন্য বিকাল ৪টার দিকে জেলা জজ আদালতে গেলে বিএনপি সমর্থিত একদল যুবক আমার ওপর হামলে পড়েন। তারা আমাকে মারধর করতে থাকেন। আমার সঙ্গে থাকা শ্রমিকদের বিল বাবদ ৭৫ হাজার টাকা ছিল। সেসব টাকা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা। পরে যেকোনোভাবে তাদের থেকে রক্ষা পেয়ে আদালতের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছি।’

জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আদালত হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তার জায়গা। সেখানে যদি এভাবে হামলা হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?’

এদিকে, সকালে জাহিদ ফারুককে আদালতে তোলার কথা থাকলেও তাকে নিয়ে আসা হয় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায়। কারাগারের প্রিজনভ্যানে করে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে তোলা হয়। আদালতে থাকা জাহিদ ফারুকের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। মামলার দিন তিনি বরিশালে ছিলেন না বলে তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। জামিনের আবেদন করায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ও আবুল কালাম শাহিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে যে আসামিকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল, তাকে ভিআইপি প্রটোকলে রাতে আদালতে হাজির করা হলো। এখনও স্বৈরশাসকের ভূত রয়েছে পুলিশের মধ্যে।’

আসামির আইনজীবী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আফজালুল করিম বলেন, ‘মামলায় যে দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন জাহিদ ফারুক ঢাকায় ছিলেন। ঢাকায় থেকে তার পক্ষে বরিশালের ঘটনায় জড়ানো সম্ভব নয়। এ কারণে জামিন আবেদন জানানো হয়। তবু বিচার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।’