বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, ‘বিগত স্বৈরাচার সরকার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জনজীবনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচিত সরকার দরকার। নির্বাচিত সরকার ছাড়া যত জ্ঞানীগুণী লোকের সরকারই হোক সেগুলো দুর্বল সরকার।’
সোমবার (১৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মেজর হাফিজ বলেন, ‘আমাদের সংগ্রাম হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকারের সংগ্রাম। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম। এসব কিছুর সমাধান নির্বাচনি সরকারই করতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব বর্তমান সরকার নির্বাচন দিয়ে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করবে। আর যা কিছু সংস্কার, এর ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হচ্ছে নির্বাচিত সরকার। নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী যে সরকার গঠন করবে বর্তমান সরকার যে সংস্কার এবং সুপারিশ করবে তা বিবেচনায় নেবে।’
তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসকে বিএনপি সমর্থন করে। তার ওপর আস্থা আছে। বিজ্ঞ ব্যক্তি ইউনূস কারও কথায় যেন প্রভাবিত না হন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন শীঘ্রই নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে নির্বাচনি কার্যক্রম এগিয়ে যেতো। আমরাও সন্তুষ্ট হতাম। আর এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডার হলো রাজনৈতিক দলগুলো।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বলেছে যুক্তিযুক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার জন্য। আমরাও একই কথা বলছি। আমার দল বিএনপি মনে করে, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব। এ জন্য নির্বাচন সংক্রান্ত যে সংস্কার প্রয়োজন তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে নির্বাচন দেবেন বর্তমান সরকার।’
বরিশালে সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলার চার্জ গঠনের তারিখ ছিল আজ। হাজিরা দিতে এলে আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ গোলাম ফারুক মেজর হাফিজকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। এ মামলার আসামি ছিলেন দুই জন।
২০১৮ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোলার বদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।