এক ছাত্রীর পক্ষ নেওয়ায় সরকারি বিএম কলেজে

চার ঘণ্টা হোস্টেলে আটকে রাখার অভিযোগ, বিএনপি নেত্রীর অস্বীকার

বরিশাল মহানগর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনকে সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রীনিবাস বনমালী গাঙ্গুলীতে চার ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এক ছাত্রীর পক্ষ নেওয়ায় সেখানে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে আটকে রাখেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সোয়া ১১টায় ছাত্রীনিবাস থেকে বের হয়ে আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারণ ছাত্রীদের সমস্যা সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন নাসরিন।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ইতিহাসের শিক্ষার্থী অন্তু অনার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও হোস্টেলে অবস্থান করছেন। তাকে একাধিকবার হোস্টেলের কক্ষ ছাড়ার জন্য হোস্টেল সুপার এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলে আসলেও তিনি কোনোভাবেই কক্ষ ছাড়ছেন না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অন্তু দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। বিএনপি নেত্রী নাসরিন হোস্টেলের সাবেক নেত্রী হওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর অন্তুর পক্ষ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধমকি দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে আটকে রাখেন। রাত ৯টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষ চার জন শিক্ষকসহ হোস্টেলে প্রবেশ করেন। এরপর বৈঠক শেষে রাত সোয়া ১১টায় নাসরিনসহ সেখান থেকে বের হন। আজ বুধবার ওই শিক্ষার্থীর হল ছাড়ার সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে হোস্টেলে ছাত্রীদল গঠন করতে নাসরিন চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোনও ধরনের রাজনীতি চান না হোস্টেলে। এ বিষয়টি নিয়েও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তোলেন।

অধ্যক্ষের সঙ্গে হোস্টেল থেকে বের হয়ে মহানগর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন দাবি করেন, তাকে আটকে রাখা হয়নি। অন্তুর সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্ব হয়। বিএম কলেজের শিক্ষার্থী থাকাকালীন সময় ওই হোস্টেলে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। এ কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকে তিনি সেখানে আসেন। আসার পর জানতে পারেন অন্তু কক্ষ ছাড়তে চাচ্ছে না, এ নিয়ে হোস্টেল সুপার ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয়। আর অন্তু অসুস্থ হওয়ার কারণে কক্ষ ছাড়তে পারছেন না।

তিনি ‍আরও বলেন, ‘ওই কক্ষে একজন নারী শিক্ষককে তোলার কথা রয়েছে। অন্তুর মেরুদণ্ডে ব্যথা থাকায় ওই কক্ষের সঙ্গে বাথরুম রয়েছে। এ কারণে সে কক্ষটি ছাড়তে চায়নি। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ এবং শিক্ষকরা এসে অন্তুকে বুধবারের মধ্যে কক্ষ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। অন্তুও বিষয়টি মেনে নিলে সমস্যার সমাধান হয়। এখানে কেউ আমাকে আটকে রাখেনি। আর আমি ছাত্রীদল গঠনে কাউকে চাপ প্রয়োগ করিনি।’

অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাসরিন বিএম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে হোস্টেলে এসেছিল সমস্যার সমাধান করতে। কোনোভাবে সমস্যা সমাধান না হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষকদের নিয়ে হোস্টেলে আসেন এবং সমস্যার সমাধান দেন। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও শান্ত হয়।’

তিনি ‍আরও বলেন, ‘এখন হোস্টেলে কোনও সমস্যা নেই।’ নাসরিনকে আটকে রাখা হয়েছিল কি না আর যেসময় নাসরিন হোস্টেলে প্রবেশ করেছে ওই সময় সে প্রবেশ করতে পারে কি না? এর উত্তরে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমার জানামতে নাসরিনকে আটকে রাখা হয়নি। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকে হোস্টেলে এসেছিল তাতে কোনও সমস্যা হয়নি। ‍এখন পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’