বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও শ্রমিকরা

বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে রূপাতলী মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।

একইসঙ্গে হামলাকারীদের বিচার চেয়ে রূপাতলী থেকে বরিশাল-ঢাকা-কুয়াকাটা ও বরিশাল-পিরোজপুর-খুলনায় জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিএম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন দূর-দূরান্তের যাত্রীরা।

কলেজের শিক্ষার্থী হাসান বলেন, মঙ্গলবার বিকালে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বিএম কলেজের এক ছাত্রী ‘তাওহীদ ক্ল্যাসিক’ নামের বাসে টিকিট আনতে কাউন্টারে যান। এ সময় ছাত্রী হিসেবে তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভাড়া দিতে চান। কিন্তু বাসের সুপারভাইজার তাদের নির্ধারিত ভাড়া চান। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করা হয়।

তিনি বলেন, ওই বাসটি বরিশাল রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে আসার আগে ওই ছাত্রীর সঙ্গে থাকা অপর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি বিএম কলেজেসহ তাদের সহপাঠীদের জানান। বাসটি স্ট্যান্ডে আসার পর এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বাস এবং শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস ভাঙচুর করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে সাত জন আহত হন বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনার জেরে রূপাতলী থেকে বরিশাল-ঢাকা-কুয়াকাটা এবং বরিশাল-পিরোজপুর-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক আটকে দেয় উভয় পক্ষ। এতে উভয় প্রান্তে দীর্ঘ যানবাহনের লাইন পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন দূর-দূরান্তের যাত্রীরা।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, ঘটনা ঘটেছে ভান্ডারিয়ায়। সেখানে ঝালকাঠীর সমিতির গাড়ির স্টাফদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঝামেলা হয়। তারা সেখানে কিছু না করে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে আসার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের জড়ো করে হামলা ভাঙচুর চালায়। তাদের প্রতিহত করতে গেলে তারা শ্রমিকদেরও মারধর করে। এমনকি তাদের অফিসে সব মালামাল ভাঙচুর করা হয়। তাই তারা জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

বাস মালিক আল আমিন বলেন, এখানে মালিক সমিতির কোনও সম্পৃক্ততা নেই। শ্রমিকরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা না পেলে তারা গাড়ি চালাবে না। এ কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে ভান্ডারিয়ায়, আর হামলা-ভাঙচুর চালানো হলো রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে। এ কোন ধরনের সভ্যতা।

ঘটনার পরপরই রূপাতলী গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম। সমস্যার সমাধানে বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

ঘটনাস্থলে অবস্থানকারী কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রণয় রায় এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে সমাধানের পর কথা বলবেন বলে জানান তিনি।