পটুয়াখালী আদালতের সামনে থেকে আসামিকে তুলে নিয়ে হাতুড়িপেটার অভিযোগ

পটুয়াখালী আদালতের সামনে থেকে সোহাগ মিয়া (৪৫) নামের এক আসামিকে তুলে নিয়ে চোখ বেঁধে হাতুড়িপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। 

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

সোহাগের বড় ভাই নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া দাবি করেন, পুরোনো একটি মামলায় কলাপাড়া থেকে ১০ থেকে ১২ জন পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে হাজিরা দিতে যান। ওই সব আসামীদের মধ্যে তার ছোট ভাই সোহাগ মিয়াও ছিলেন। দুপুরের দিকে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালত চত্বরে কে বা কারা তার ভাইকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায়। তুলে নেওয়ার পরেও চোখ বেঁধে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত এবং দুই হাঁটুতে হাতুড়িপেটা করা হয়। এরপর একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর এক ইউপি সদস্য তাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে পটুয়াখালী বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে দেন। এরপর সোহাগ আমতলী পৌঁছালে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। 

সোহাগ মিয়ার মামলার আইনজীবী শংকর লাল জানান, কলাপাড়া উপজেলার একটি রাজনৈতিক মামলায় একাধিক আসামি গত ২৩ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় উচ্চ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে ছয় সপ্তাহের মধ্য নিম্ন আদালতে হাজির হতে বলেন। সেই নির্দেশে আসামিরা  বুধবার পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে হাজিরা দিতে পটুয়াখালীতে আসেন এবং দুপুরে আদালতে উপস্থিত হন। 
তিনি বলেন, মামলার আইনজীবী হিসেবে আমি তখন এজলাসে উপস্থিত ছিলাম। জজ কোর্টের সামনে ঝামেলার ঘটনা শুনেছি, কিন্তু বিস্তারিত জানি না।

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান খোকন বলেন, আইনজীবী চত্বরে ঝামেলার কথা শুনেছি, কিন্তু তখন আদালতে ছিলাম।

কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স কবির হোসেন বলেন, বুধবার বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে সোহাগ মিয়া নামের হামলার শিকার এক ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জের গামরতলা গ্রামে। তার দুই হাঁটুতে মারাত্মক আঘাত রয়েছে। ডাক্তার তানজিলা হাসিল তুষা রোগীর  চিকিৎসা করেছেন। তবে অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবারকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আদালত চত্বরে একটি ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি। এরপর একটি নম্বর সংগ্রহ করে কল দিয়ে জানতে পারি, তিনি আমতলি চলে গেছেন। পরে এ বিষয়ে আপডেট জানার সুযোগ হয়নি।

উল্লেখ্য, কলাপাড়ায় ছাত্রদল নেতা জিয়াউর রহমান হত্যার ঘটনায় ১৪ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন তার ছোট ভাই তাইফুর রহমান । মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। সেই মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বুধবার আদালতে হাজিরা দিতে এলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

মামলার বাদী তাইফুর রহমান বলেন, আমার ভাই জিয়াউর রহমানকে হাত, পা, বুক, পিঠে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে শরীরের হাড় ভেঙে গেলে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে যায় তারা। পরে আর দাঁড়াতে পারেনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৫ সালের ২৫ মে বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ওই সময় আমাদের বাড়ি থেকে ১৭টি গরু ও ছাগল লুট করা হয়েছিল। সরকারবিরোধী আন্দোলন বন্ধ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল নেতা জিয়াউর রহমানকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তখন থানায় ও আদালতে মামলা করতে চাইলে মামলা নেয়নি।