বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যারা অতীতে ও বর্তমানে দেশবাসীর কাছে সততা প্রমাণ করতে পারেনি তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার নাই। অতীতে যারা দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সম্মান করেছে তারা ভোট চাইবে।’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পাবলিক মাঠে পটুয়াখালী-২ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামী ১৩ তারিখে নতুন বাংলাদেশকে পিঠে নিয়ে সূর্য উদয় হবে। যদি আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি, বাংলাদেশ মানুষের হাতের ১০ আঙুলের চেয়ে পরিচ্ছন্ন থাকবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য আমরা করি না, কাউকে করতেও দেবো না। যদি কেউ অন্যায় মামলা করেন তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। ব্যাংক ও প্রজেক্টের (প্রকল্প) টাকা চুরি করতে দেওয়া হবে না। এ দেশের ২৭ লাখ কোটি টাকা বিদেশ পাচার করা হয়েছে, আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিলে ওদের পেটের ভেতর হাত দিয়ে সেই টাকা ফিরিয়ে এ নিয়ে রাষ্ট্রের তহবিলে জমা করা হবে। যে এলাকা যত বেশি বঞ্চিত হয়েছে এবং শোষণ করা হয়েছে সেখান থেকেই উন্নয়নের যাত্রা শুরু হবে। এখানে মামু-খালুর টেলিফোনে কাজ হবে না, প্রধানমন্ত্রীর-রাষ্ট্রপতির বাড়ি কোথায় সেটি বিবেচনা করা হবে না। ন্যায্যতার ভিত্তিতে জনগণের পাওনা নির্ধারণ করা হবে।’
বরিশালবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নদী ভাঙনে সর্বহারা হয়ে যাওয়ার যে হাহাকারসহ আপনাদের যত বঞ্চনা আছে আমাদের সুযোগ দিলে সেসব অধিকার ও দাবির জন্য লড়তে হবে না।’ ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
পরে তিনি জেলার চারটি আসনে জামায়াত ও শরিকদলের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। সভায় কেন্দ্রীয় জামায়েত ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম সহ জামায়াত ইসলামী ও শরিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জনসভায় পটুয়াখালী জেলার আট উপজেলার প্রায় অর্ধ লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।