পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত চার জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভান্ডারিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকাল ৪টার দিকে বাউফল পৌর শহরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমানের বদলির দাবিতে থানার সামনে এবং বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছেন তারা।
আহতদের মধ্যে মো. জুয়েল (৩৩), মো. নয়ন (১৭), লিমা আক্তার (২৫) মো. শাহজালাল (২০), মো. সুজন (২৬), মো. শহিদুল ব্যাপারী (২৭), মো. আনিসুর রহমান (৫৫), মো. আমিনুল মাতুব্বর (৩৫), মো. নুরু মাতুব্বর (৩৫), মো. সাইফুল শরিফ (৩৫), মো. আল আমিন (২৫), মো. সোহাগসহ (২৭) ৩০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ, স্থানীয় সূত্র ও দুই দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের সমর্থকরা প্রচারণা চালান। এ সময় একজন ভোটারকে ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে বিএনপির এক কর্মী ভিডিও করতে গেলে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের সমর্থকরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি ভান্ডারিয়া বাজারে মুখোমুখি হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের চন্দ্রদ্বীপ থেকে ট্রলারযোগে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে বিকালে বাউফল পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে আসা বিএনপির এক কর্মীকে মারধর করেন তারা। এ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আরও ১০ জন আহত হন।
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার সমাবেশে যাওয়ার পথে বাউফল থানার সামনে তার গাড়ি আটকে দেন জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। পরে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনেসহ পৌর শহরের একাধিক স্থানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও ১৫ জন আহত হন।
এদিকে, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তার বদলির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে জামায়াত। সন্ধ্যা ৬টার দিকে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা বাউফল থানার ওসির বদলির দাবিতে থানার সামনের ফটক এবং বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাদের অবরোধ চলছিল।
জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির লোকজন হামলা চালান। এতে আমাদের ১৫ জন কর্মী আহত হন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।’
বাউফল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমান বলেন, ‘বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। আমরা তার বদলির দাবিতে অনড় অবস্থানে আছি। তার ইন্ধনেই জামায়াতের কর্মীরা একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছেন। বিএনপির লোকজন ধারাবাহিকভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করছেন।’
বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, ‘জামায়াতের সমর্থকরা আমার কর্মীদের কুপিয়ে আহত করেছে। বর্তমানে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবো।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চন্দ্রদ্বীপে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে জামায়াত আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে, তার সবগুলোই মিথ্যা। আমি আমার অবস্থান থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে চলছি। কোনও পক্ষে অবস্থান নিইনি।’