২ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর লিজের জমি দখল করলেন বিএনপি নেতারা

বরিশালের গৌরনদীতে দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ফল ব্যবসায়ী জালাল রাঢ়ীর লিজকৃত জমি দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। 

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার ব্যবসায়ীর স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সজল সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাফর ইকবাল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ সরদারকে অভিযুক্ত করা হয়। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়।

সীমা বেগম লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার স্বামী জালাল রাঢ়ী ১৫ বছর আগে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে মাহিলাড়া বাজারের একটি ভিটায় গোডাউন নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। সরকারি বিধি মোতাবেক প্রতি বছর ওই চান্দিনা ভিটার লিজের টাকা উপজেলা ভূমি অফিসে রাজস্ব খাতে জমা দিয়ে নবায়ন করে আসছেন। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দোকান ঘরটি ভেঙে ফেলা হলে সেটি পুননির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ওই ভিটাতে নতুন করে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা সজল সরকার, জাফর ইকবাল ও বায়েজিদ সরদার দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হলে অভিযুক্তরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে খুঁটি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে জমিটি দখল করে রাখেন। 

এ বিষয়ে সীমা বেগম বলেন, ‘দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতারা আমাদের লিজের দোকানের জায়গাটি দখলে নিয়েছেন। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বাজারের ইজারাদার মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সজল সরকার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ সরদার চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সজল সরকার বলেন, ‘ওই ভিটাতে বাজারের গভীর নলকূপ স্থাপন করে প্রায় ২০ ফুট দূরত্বে সরিয়ে নলকূপের মাথা বসানো হয়েছে। তাই ওই ডিসিআর বাতিল করার জন্য বাজারের ইজারাদারের পক্ষ থেকে এসিল্যান্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কেউ যাতে সেখাতে দোকানঘর তুলতে না পারে সেজন্য বাঁশের বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। এটি দখল করা হয়নি।’

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাফর ইকবাল বলেন, ‘ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে জানতে পারি চান্দিনা ভিটা নিয়ে জালাল রাঢ়ী ও বাজারের ইজারাদার সজল সরকারের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে ডাকা হলে জালাল রাঢ়ী আমার ডাকে সাড়া দেননি। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘মাহিলাড়া বাজারের ওই চান্দিনা ভিটাটি ডিসিআর (লিজ) নেওয়ার জন্য একাধিক ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন। তবে ওই ভিটা জালাল রাঢ়ীর নামে আগেই থেকে লিজ নেওয়া আছে। চলতি বছরও জালালের নামেই লিজ নবায়ন করা হয়েছে।’

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’