চোখের জলে বিদায়, আসলে কি রোগে আক্রান্ত ছিলেন সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি?

বরিশালে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় দৈনিক সমকাল পত্রিকার সাবেক ব্যুরো প্রধান সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সহকর্মীরা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ২টার দিকে নগরীর কাউনিয়ার মহাশ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এর আগে বেলা ১টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে বরিশাল প্রেসক্লাবে নিয়ে আসা হয় মরদেহ। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও সাংবাদিকরা কালোবাজ ধারণ করেন। সেইসঙ্গে প্রেসক্লাবে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

বিলকিস আকতার জাহান শিরিন বলেন, ‘আমি ছাত্ররাজনীতি থেকে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিকে চিনি। তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্মপরায়ণ সাংবাদিক ছিলেন। তার ভেতরে এতটা চাপা কষ্ট ছিল, তা আমরা কেউই বুঝিনি। তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রেসক্লাবে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলক চ্যাটার্জি একজন মেধাবী ও ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যু সবাইকে কাঁদিয়েছে। তিনি বেঁচে না থাকলেও তার কর্ম তাকে বাঁচিয়ে রাখবে সবার মাঝে। পুলক চ্যাটার্জি মৃত্যুর আগে যে চিরকুট লিখে গেছেন, সেখানে সাবেক কর্মস্থলে তার কিছু টাকা পাওনার কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ এগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে এমন প্রত্যাশা করেন তারা। 

পরে বরিশাল প্রেসক্লাব থেকে তার মরদেহ সরকারি বরিশাল কলেজ সংলগ্ন নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মরদেহের সামনে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখান থেকে পুলক চ্যাটার্জির মরদেহের শেষকৃত্যের জন্য বরিশাল মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন বলেন, ‌‘তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছি আমরা। তার লাশের পাশে পাওয়া ৫টি সুইসাইড নোটে কারণও উল্লেখ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে আমরা নিশ্চিত তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’ 

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি

জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘তবে সুইসাইড নোটে তার অসুস্থতার জন্য আত্মহত্যার কথা উল্লেখ থাকলেও এটা সত্য নয়। কারণ তার বড় কোনও রোগ ছিল না। পুলক চ্যাটার্জির ঠান্ডাজনিত সমস্যা ছিল। বিশেষ করে পিঠে তার ব্যথা ছিল। সেজন্য ভারতে গিয়ে চিকিৎসাও করিয়েছেন। আমাদের ধারণা তিন বছর আগে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তাকে বিভিন্নভাবে সাংবাদিকতা পেশায় ফিরে আসতে বললেও তাতে রাজি হননি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন সমকালের সঙ্গে থাকার পর হঠাৎ করে চাকরি চলে যাওয়ায় বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। সেই ক্ষোভ থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে আমরা ধারণা করছি।’

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ নগরীর প্যারারা রোডের সমকালের বরিশাল কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। মরদেহের পাশ থেকে পাঁচটি চিঠি উদ্ধার করা হয়। 

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি তিন বছর আগে দৈনিক সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত হন। তার আগে দৈনিক যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান ছিলেন এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘পুলক চ্যাটার্জির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’